Tuesday, 15 June 2021

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ ও বাস্তবতা

 গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান এর অনুচ্ছেদ ৭ অনুসারে রাষ্ট্রের মালিক জনগণ এবং অনুচ্ছেদ ৩৯ এ জনগণের চিন্তা, বিবেক এবং বাক-স্বাধীনতার নিশ্চিয়তার কথা বলা হয়েছে। উপরোক্ত অধিকার নিশ্চিতকরণে সহায়ক এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি ও নাগরিকের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়। আইনুসারে তথ্য বলতে ভৌতিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য নির্বিশেষে যে কোন তথ্যবহ বস্তু বা এর প্রতিলিপিকে বুঝায়। তথ্য অধিকার আইনের ধারা ৭ এ উল্লিখিত কিছু সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে ধারা ৪ অনুসারে একজন ব্যক্তি তার অধিকার প্রতিষ্ঠায় যে কোন সরকারি/বেসরকারিকর্তৃপক্ষের নিকট তথ্য চেয়ে আবেদন করতে পারেন।

তথ্য অধিকার আইন অধিকার আদায় ও রাষ্ট্রীয় কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের অবারিত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারনে আইন প্রয়োগের উল্লেখযোগ্য প্রসার দেশে হয়নি। অথচ আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগের কাব্যিক চরিত্রয়াণের দৃশ্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগ সীমিত কারন এর প্রায়োগিক জটিলতা যা সাধারণ মানুষের নিকট দুর্বোধ্য, সচেতন মহলের আইনে প্রয়োগে অনীহা, সরকারের উদাসীনতা, তথ্য কমিশনারদের তথ্য অধিকার আইনের জ্ঞানের স্বল্পতা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানে শীথলতায় আইন তারউদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ। জনসাধারণের মাঝে তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতনার জন্য আমাদের দেশে সরকারি ও বেসকারি পর্যায়ে দিবস ভিত্তিক প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগের উদাহারণ দৃশ্যায়ণ হলেও এনজিও কার্যক্রম বৈদেশিক অর্থ নির্ভর হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর ইস্যুতে কতিপয় এনজিও কর্তৃকআইন প্রয়োগে অনীহার দৃষ্টান্তও পরিলক্ষিত হয়। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তথ্য অধিকার আইনের আওতায় বর্হিভূত থাকতে চাওয়ার মানসিকতাও তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের পথের অন্তরায়।

আইনে তথ্য কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে ১২ ধারায় সে অনুযায়ি তথ্য কমিশন মোট ৩ (তিন) জন ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত অর্থ্যাৎ একজন প্রধান তথ্য কমিশন এবং দুই জন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত এবং প্রধান তথ্য কমিশনার প্রধান নির্বাহী। তথ্য কমিশন প্রায় বা আধা-বিচারিক ক্ষমতার অধিকারী এবং কমিশন তার প্রায় বা আধা-বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনাকালে দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতারঅধিকারী। কিন্তু কমিশনের বর্তমান এবং অতীতেরপ্রায় সকল কমিশনার কেউই আইন অঙ্গনে পচারণ করেনি বা আইনি কার্যক্রমে তাদের অভিজ্ঞতা নেই বা ছিল না। অধিকাংশ কমিশনারগণ হয় সরকারের সাবেক আমলা না হয় কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ব্যতীত অন্যকোন বিভাগের শিক্ষকতা করেন বা করেছেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই কমিশনের সদস্যগণ আইনের সঠিক ব্যাখ্যা করতে না পারায় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে তথ্য না পেয়ে যখন কেউ অভিযোগ নিয়ে কমিশনে আসেন তখন কমিশনগণের ’জুরিসপ্রুডেন্সিইয়াল নলেজ’ এর অভাব হেতু সঠিক প্রতিকার পাচ্ছেন না। ফলশ্রুতিতে একজন ভুক্তোভোগী ক্লান্তি ও হতাশা নিয়ে অধিকন্তু প্রতিকারের অর্থ্যাৎ কমিশনের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দারস্থ হতেও আস্থা হারাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতে রাষ্ট্রের উচিৎ কমিশনে অন্তত দুইজন সদস্য আইনসম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এবং অভিজ্ঞতা আছে এমন কাউকে নিয়োগ করা যাতে করে আইনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সহজ হয়।

আইনের ১০ ধারায় প্রত্যেক সরকারি/বেসরকারি অফিসে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য অধিকার কর্মকর্তা নিয়োগের বাধ্যবাধকতার কথা বলা হলেও আজ অবধি অনেক অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তাকে হারিকেন লাগিয়ে খুঁজলেও পাওয়া না ফলে একজন আবেদনকারী তথ্য প্রাপ্তির আবেদন করতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছেন। আবার যখন কেউ পোস্ট অফিসে না গিয়ে ই-মেইলে তথ্য প্রাপ্তির আবেদন করেন তখনও দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ই-মেইলে তথ্য প্রদান করছেন না। অধিকন্তু কমিশনের ওয়েবসাইডে তথ্য প্রাপ্তির নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা কম এবং পদ্ধতিগত জটিলতায় মানুষের আগ্রহও কম। এই আইনের ৮ ধারা অনুসারে একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট ফরমে সরকারি বা বেসরকারি কর্তৃপক্ষের নিকট তথ্য চেয়ে আবেদন করতে পারবেন। আইনের বিধিমালা ২০০৯ এর বিধি ৩ তথ্য প্রাপ্তির আবেদন পত্র প্রাপ্তির পর দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা উপর প্রাপ্তি স্বীকারের জন্য আবেদনকারীর সাথে ডাকযোগে, ফোন বা মোবাইলে অথবা ই-মেইলে যোগাযোগ করার বাধ্যবাধ্যকতা আরোপ করেছে। কিন্তু প্রায়ই এই বাধ্যবাধকতার ব্যতয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা যোগাযোগ করেন না এবং আবেদনকারী যোগাযোগ করলেও তার সঠিক জবাব প্রদান করেন না। আইনের ধারা ৯ এবং উক্ত আইনের বিধিমালার বিধি ৪ অনুসারে দায়িত্ব প্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ২০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে তথ্য প্রদানকরবেন কিন্তু যদি তথ্য প্রদানের সাথে যদি এক বা একাধিক ইউনিট বা কর্তৃপক্ষ জড়িত থাকে তাহলে অনুরোধকৃত তথ্য ৩০ দিনের মধ্যে অনুরোধকারীকে সরবরাহ করবেন। আবার তথ্য কর্মকর্তা তথ্য প্রদানে অপারগ হলে ১০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে তার অপারগতা সম্পর্কে জানাবেন। বাস্তবতা হলো অনেক ক্ষেত্রেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন কারন ছাড়াই তথ্য প্রদানে অযথা বিলম্ব করেন কিংবা আইন বুঝেন না বা জানেন না বলতেও শোনা যায়। উল্লেখ্য যে, ধারা ৭ এর বাধার কারনে সম্পূর্ণ আবেদন বাতিল না করা এবং যতটুকু তথ্য প্রদান করা যায় ততটুকু তথ্য আবেদনকারীকে সরবরাহ করতে বলা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা কর্তৃক কোন তথ্যই প্রদান না করার প্রমাণও পাওয়া যায়।
এই আইনের একটা বিশেষ দিক হলো কোন ইন্দ্রীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কোন অডিও রেকর্ড পদ্ধতিতে তথ্য প্রাপ্তির আবেদন করলে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদনকারীকে অডিও রেকর্ডে তথ্য প্রদানে সহয়তা করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো কোন সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উল্লিখিত পদ্ধতিতে তথ্য প্রদানে সক্ষম বা আগ্রহী বলে প্রতিয়মান হয় না।
তথ্যের জন্য আবেদনকারী একজন ব্যক্তি তথ্য না পেলে তথ্য অধিকার আইনের ২৪ ধারা এবং উক্ত আইনের বিধিমালার বিধি ৬ অনুসারে নির্দিষ্ট ফরমে আপীল করতে পারেন। সাদা কাগজেও আপীল আবেদন করা যায়। সাধারণত আপীল আবেদন সংশ্লিষ্ট অফিস বা দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা প্রশাসনিক প্রধানের নিকট করতে হয়। আবেদনে তথ্য না পেলে বা তথ্য প্রদানে অপরাগতার সিদ্ধান্তের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আপীল আবেদন করতে হয়। আপীলকারী কর্তৃপক্ষের সন্তুষ্টি ক্রমে ৩০ দিন পরেও আপীল আবেদন করা যায়। আপীল আবেদন পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আপীল কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব প্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তাকে তথ্য সরবরাহের নির্দেশনা প্রদান করবেন। আবেদন আপীল কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য না হলে আপীল আবেদন খারিজ করে দিবেন। দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা আদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে আদেনকারীকে তথ্য প্রদান করবেন। এখানে সমস্যা হলো আপীল কর্মকর্তা, দায়িত্ব প্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তার মত একই রকমের আচরণ করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রেই দায়িত্বপ্রাপ্ত আপীল কর্মকর্তা সময়মত সঠিক আচরণ করেন না। আবার ক্ষেত্র বিশেষে যখন তথ্য প্রদানের আদেশ প্রদান করেন তখন আইন অনুযায়ী আদেশ দেন না। দায়িত্ব প্রাপ্ত আপীল কর্মকর্তার ঘন ঘন বদলী এবং অধিক কাজের চাপ, মূল কাজের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ও তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে কার্যকরি জ্ঞান না থাকায় আপীলেও তথ্য না পাওয়ার অন্যতম কারন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ আইন বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তাকে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করা এবং শুধুমাত্র তথ্য প্রদানের জন্য পোস্ট সৃষ্টি করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা উচিৎ যাতে করে সময়মত আইন অনুসারে সঠিক তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয়।
আপীল আবেদনে তথ্য না পেলে এই আইনের ধারা ২৫ অনুসারে একজন ব্যক্তি তথ্যকমিশনের নিকট নির্দিষ্ট ফরমে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। আপীল আবেদনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পেলে বা আইনে উল্লিখিত অন্যকোন কারনে পরবর্তী ৩০ দিনে মধ্যে তথ্য কমিশনের নিকট অভিযোগ দায়ের করতে হয় তবে যুক্তি সংঙ্গত কারনে ৩০ দিন পরেও অভিযোগ দায়ের করা যায়। অভিযোগ দায়ের করার পর কমিশন অভিযোগ অনুসন্ধান বা পর্যালোচনা করে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। কমিশনঅভিযোগের শুনানীর জন্য উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে নির্ধারিত দিনে কমিশনে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য অনুরোধ করে থাকেন। ধারা ২৬ অনুসারে উভয় পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে বা আইনজীবীর মাধ্যমে কমিশনে বক্তব্য পেশ করতে পারেন। সাধারণত কমিশনে যারা অভিযোগ করেন তাদের অধিকাংশই নিম্ম আয়ের স্বল্প শিক্ষিত মানুষ যাদের পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ না করে কমিশন থেকে প্রত্যাশিত ফল পাওয়াটা দুস্কর। অপরপক্ষে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় তাদের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী হওয়ায় অভিযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর বিষয়ে প্রত্যাশিত ফল হতে বঞ্চিত হয়ে থাকে। অধিকাংশ অভিযোগকারী শুধুমাত্র তথ্যের আবেদন,আপীল ও অভিযোগ করার জ্ঞান নিয়ে কমিশনে যখন শুনানীর জন্য হাজির হয় তখন পদ্ধতিগত কিছু ভুল ভ্রান্তি ও সঠিক উপস্থাপনের অভাবে তথ্য প্রাপ্তির অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছেন।এই সমস্যা সমাধনের জন্য তথ্য প্রত্যাশি অভিযোগকারী ব্যক্তিকে বিনামূল্যে কমিশন হতে আইনী সহয়তা প্রদান করা হলে মানুষ তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগে উৎসাহী হবেন। যদিও কিছু কিছু বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষেত্র বিশেষে আইনী সহয়তা প্রদান করে থাকেন যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং সন্তোষজনক নয়।

আইনে অভিযোগ পাওয়ার ৪৫ দিন বা ক্ষেত্র বিশেষে ৭৫ দিনের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অবস্থা বিবেচনায় অভিযোগ নিষ্পত্তির ৭৫ দিনের সীমা রেখাকে অতিক্রম করে দেড় বা দুই বছর পর্যন্ত গড়ায়। উল্লেখিত ৭৫ দিন মূলত তথ্য কমিশনের জন্য নির্দেশনামূলক, বাধ্যতামূলক না কারন আইনে ৭৫ দিনে নিষ্পত্তি না হলে কি হবে সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। শুনানী অন্তে কমিশনের সিদ্ধান্ত সকল পক্ষের উপরে বাধ্যকর বলা হলেও আইনে কমিশনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ বা রিভিশন এর সুযোগ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কমিশন কর্তৃক ভুলের কারনে অনেকেই কাঙ্খিত তথ্য প্রাপ্তির অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তে কেউ অসন্তুষ্ট হলে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা যায়।
আইনের ধারা ২৭ এর বলে কমিশন যদি অভিযোগ নিস্পত্তি সূত্রে যদি মনে করেন (ক) দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন যুক্তি ছাড়াই তথ্য প্রাপ্তির আবেদন বা আপীল গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে;(খ) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য দিতে বা সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হয়েছে; (গ) অসৎ উদ্দেশ্যে তথ্য প্রাপ্তির আবেদন বা আপীল প্রত্যাখান করেছে; (ঘ) ভুল, অসম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর বা বিকৃত তথ্য প্রদান করেছে; অথবা (ঙ) তথ্য প্রাপ্তির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তাহলে কমিশন উপরোক্ত কর্মকান্ড বিবেচনায় দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রদানের তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিনের জন্য ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা জরিমানা আরোপ করতে পারেন তবে জরিমানার অর্থ কোনভাবেই ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকার বেশি হবে না। আইনে আর্থিক দন্ডের বিধান রাখা হলেও দন্ড প্রদানের দৃষ্টান্ত খুবই কম যা আইনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকে করেছে দীর্ঘায়িত। আইন বাস্তবায়নে কমিশনের দৃঢ় ভূমিকা প্রত্যাশিত অন্যথায় কমিশনের প্রতিসাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ঘাটতি আসন্ন। সর্বোপরি আইন বাস্তবায়নে সকল পক্ষের যৌথ প্রয়াসই আইনের সর্বোত্তম ব্যবহারকে নিশ্চিত করে। সকলের উচিৎ তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানা এবং এবং নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন প্রয়োগ করে সরকাররি ও বেসকারি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

পিতা-মাতার অধিকার রক্ষায় আইন ও আইনের প্রয়োগ

 সৃষ্টিকর্তার পরবর্তী স্থানই পিতা-মাতার ” – ইউলিয়াম পেন যথার্থই বলেছিলেন।

সৃষ্টিকর্তার অধিকারের পর প্রথম অধিকার হচ্ছে পিতা-মাতার অধিকার। একটা সময় পর্যন্ত মাতা-পিতা সন্তানকে লালন-পালন করেন। পরবর্তীতে  সন্তানের কর্মক্ষম হওয়ার পর থেকেই পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব বর্তায়।
আমরা জানি নৈতিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে পিতা-মাতার দ্বারা সন্তানের কোনো ক্ষতি হলেও তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। তা সত্ত্বেও পিতা-মাতার সাথে খারাপ ব্যবহার করার যথেষ্ট চিত্র রয়েছে বর্তমান সমাজে। অনেক সন্তানের সক্ষমতা থাকার পরও তারা সঠিক শিক্ষা অথবা সদিচ্ছার অভাবে পিতা-মাতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। মাতা-পিতার ব্যয়ভার বহন না করে তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রমে বা রাস্তায়, স্টেশনে ফেলে যাওয়ার অজস্র ঘটনা প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে আমাদের সমাজে, যা চরম অবক্ষয়ের ইংগিত বহন করে। এমন পরিস্থিতি অনুধাবন করে সরকার সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করার জন্য সরকার একটি আইন পাস করে। বর্তমানে এই আইন থাকা সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে- অনেক পরিবারেই বৃদ্ধ পিতা-মাতা তাদের  সন্তানের কাছ থেকে ভরণ-পোষণ পাচ্ছেন না বরং প্রায় সময়ই লাঞ্চনা-বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। পিতা মাতাকে বৃদ্ধ বয়সে একাকীত্ব ও নানা ধরনের বঞ্চনা থেকে বাঁচাতে রক্ষাকবচ হিসেবে  আমাদের দেশে পিতা মাতার ভরণপোষণ আইন,২০১৩  আইনটি চমৎকার ভুমিকা পালন করবে।
পিতা মাতার অধিকার নিয়ে  এই আইনের  গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গূলো  আলোকপাত করা হলো।
•পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিয়ে কোন আইন আছে? 
হ্যাঁ,  পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিয়ে বাংলাদেশে একটি আইন রয়েছে। সরকার  একটি আইন পাস করে যার নাম  “পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন,২০১৩”। ২০১৩ সালের পূর্বে এ সম্পর্কিত কোনো বিধিবদ্ধ আইন ছিল না।
•ভরণপোষণ বলতে কি বুঝায়?
পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন,২০১৩ এর ২ ধারায়  “ভরণ-পোষণ” এর সুন্দরও একটি চমৎকার সংজ্ঞা প্রদান করেছে। খাওয়া -দাওয়ার খরচ, অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বাসস্থান ও আর্থিক বিষয়ের পাশাপাশি পিতা-মাতাকে সময় দেওয়া বা সঙ্গ প্রদানের বিষয়টিও ভরণ-পোষণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ কেবল টাকা-পয়সা দিলেই দায়-দায়িত্ব শেষ নয়। এই  আইন বলা হয়েছে, বয়স্ক পিতা-মাতাকে অবশ্যই সময় দিতে হবে।এবং এই সময় দেয়াও ভরন-পোষণ এর অন্তর্ভুক্ত।
• সন্তান যদি প্রতিবন্দী হয় বা কোনো কারণে উপার্জন করতে না পারে তাহলে সে কি পিতা মাতার ভরণপোষণের দিতে বাধ্য ? 
এই আইনের ২ ধারায় বলা হয়েছে, সক্ষম এবং সামর্থ্যবান পুত্র বা কন্যা পিতা-মাতাকে ভরণ-পোষণ দিতে বাধ্য। অর্থাৎ সামর্থ্যহীন সন্তান বাধ্য এমন নয়।
• পিতা-মাতার ভরনপোষণ কিভাবে নির্ধারন হবে? 
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনের ৩ এর (৭) অনুযায়ী, কোনো পিতা বা মাতা কিংবা উভয়ে, সন্তানদের সাথে বসবাস না করতে চাইলে পৃথকভাবে বসবাস করলে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত পিতা বা মাতার প্রত্যেক সন্তান তাহার দৈনন্দিন আয়-রোজগার, বা ক্ষেত্রমতো, মাসিক আয় বা বাৎসরিক আয় হতে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা, বা ক্ষেত্রমতে, উভয়কে নিয়মিত প্রদান করবে। অর্থাৎ  বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী পিতামাতার সুন্দর জীবন-যাপন এর জন্য যা যা প্রয়োজন সেই অনুযায়ী নির্ধারণ হবে।
• পিতা-মাতা  আর্থিকভাবে সচ্ছল, সামর্থ্যবান  হলেও সন্তান কি বাধ্য পিতা মাতার ভরণপোষণের জন্য? 
এই বিষয় স্পষ্ট যে, পিতা-মাতা  আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেও তাদের ছেলে বা মেয়ে অবশ্যই তাদেরকে ভরণ-পোষণ দিতে হবে। তবে সন্তান অবশ্যই সক্ষম এবং সামর্থ্যবান হতে হবে।
• পিতা মাতার যখন একের অধিক সন্তান থাকে তখন ভরণপোষণের পরিমান, কে কতটুকু দিবে তা  কিভাবে নির্ধারন করা হবে? 
যেহেতু একই পরিবারে সকল ভাই-বোনের উপার্জন ক্ষমতা সমান হয় না। তাই এই আইনের ৩ ধারার উপধারা ২ অনুযায়ী সন্তানেরা নিজেদের মাঝে
আলাপ-আলোচনা করে ভরণ- পোষণ  এর পরিমাণ নির্ধারণ করবে।  যাতে সন্তানরা তাদের সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে বৃদ্ধ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের জন্য আনুপাতিক হার নির্ধারণ করতে পারে। অর্থাৎ ছেলে-মেয়ে একাধিক হলে আইনের বিধান হলো তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে পারবে।
• সন্তান চাইলেই কি তাদের বৃদ্ধ পিতা মাতাকে তাদের ইচ্ছার বাইরে বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও রাখতে পারবে? 
না, পারবে না। পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনের অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট হলো এই আইনের মাধ্যমে  পিতা-মাতার ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, সন্তান বা সন্তানরা চাইলেই পিতা-মাতা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও রেখে আসতে পারবে না। কিংবা আলাদাভাবে বাস করতে বাধ্য করতে পারবে না। তবে পিতা-মাতা চাইলে তাদেরকে পৃথকভাবে রাখার ব্যবস্থা করা যাবে। সেক্ষেত্রে সন্তান বা সন্তানদেরকে অবশ্যই পিতা-মাতার সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করতে হবে এবং মা-বাবার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখতে হবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করতে হবে।
• কোন বৃদ্ধ দম্পতির অথবা বৃদ্ধ তার মৃত সন্তানের সন্তান অর্থাৎ তার নাতি থেকে ভরণপোষণ দাবী করতে পারবে? 
হ্যাঁ পারবে। যদিও আইনের নাম পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন তারপরও এই আইনের ৪ এর ক ও খ ধারা অনুযায়ী দাদা-দাদি এবং নানা-নানির অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী সন্তান বা সন্তানেরা পিতা জীবিত না থাকলে দাদা-দাদি জীবিত থাকলে তাদেরকে পিতার মতোই ভরণপোষণ দিতে হবে। আর মাতা জীবিত না থাকলে নানা-নানি জীবিত থাকলে তাদেরকে মাতার মতোই ৩ ধারা অনুযায়ী ভরণপোষণ দিতে হবে। তার মানে, কারও যদি শুধু মাতা এবং পিতা মরণে দাদা-দাদি থাকে তাহলে তিনজনকেই ভরণ-পোষণ দিতে হবে।
• বৃদ্ধ সৎ মা অথবা সৎ পিতার ভরনপোষণ করতে সন্তান বাধ্য কি?
না, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন অনুসারে কেবল জন্মদাতা পিতা এবং গর্ভধারিণী মা ভরণ-পোষণ পাবেন। সৎমা এবং সৎবাবাকে ভরণ-পোষণ দিতে সন্তান বাধ্য নয়। সন্তান দিতে পারে তবে আইনে কোন বাধ্যবাধকতা নাই।
• সন্তান পিতামাতাকে ভরণ-পোষণ না দিলে শাস্তির  বিধান কী?  
এই আইনের ধারা ৫ এ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন অনুযায়ী পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি বা নানা-নানিকে ভরণ-পোষণ না দিলে তা অপরাধ হিসেব গণ্য হবে। এই অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ ০১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড এবং জরিমানার টাকা অনাদায়ের অনূর্ধ্ব ৩মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
• কোন সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী অথবা ছেলেমেয়ে সহ অন্য কোন আত্মীয় যদি পিতা মাতার ভরণপোষণে বাঁধা দেয়, তবে শাস্তির বিধান আছে?  
হ্যাঁ আছে। কোনো সন্তানের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে বা নিকটাত্মীয় যদি বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সন্তানকে দায়িত্ব পালনে বাঁধা দেয় তাহলে তারাও একই অপরাধে অপরাধী হবে। ফলে তারাও একই শাস্তির মুখোমুখি হবে। অর্থাৎ
অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হবে।
• এই আইনের অপরাধ সমুহ: 
পিতা মাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩ এর ৬ ধারা অনুযায়ী এই আইনের অপরাধ সমুহ আমলযোগ্য  এবং পারিবারিক ব্যাপার বলে জামিনযোগ্য  এবং আপোষযোগ্য। ভুক্তভোগী চাইলে আপোষের মাধ্যমে মিমাংসা করতে পারবে।
• অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ও বিচার:  
এই আইনের ৭ ধারায় বলা আছে
কোন সন্তান যদি আইন অনুযায়ী পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি অথবা নানা-নানিকে ভরণ-পোষণ না দেয় তবে নিম্ন বর্নীত উপায়ে ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করতে পারবে। এই আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচার যোগ্য হবে। এবং আদালত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সন্তানের পিতা-মাতা বা ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ ব্যতীত আমলে গ্রহন করবে না।
• লিগ্যাল এইডে বিন্যমুল্যে আইনী সেবা গ্রহনের সুযোগ আছে কিনা? 
হ্যাঁ, আছে। বৃদ্ধ পিতা-মাতা বা ভুক্তভোগী ব্যক্তি যদি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হন তবে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন  করতে হবে। অফিসার তার জন্য সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ করে দেবেন।
• আপোষে নিস্পতির বিধান: 
 ধারা ৮ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে  অভিযোগ দায়ের বা মামলা শুরু হওয়ার পরও আদালত যে কোনো ব্যক্তির নিকট বিষয়টি আপোষ করিয়ে মীমাংসার জন্য পাঠাতে পারেন।  আপোষ নিস্পত্তির জন্য সাধারণত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বার, বা পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলর বা যে কোন উপযুক্ত ব্যক্তি কে আপোষ  মিমাংসার জন্য পাঠাতে পারে। আপোষ মিমাংসায় ব্যর্থ হলে তখন মামলা চলতে থাকবে এবং বিচারে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির শাস্তি হবে।
• আমাদের দেশে পিতা মাতার ভরণপোষণ আইনের প্রয়োগ না হওয়ার কারন কি? 
এর প্রধান কারণ হচ্ছে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং আইন সম্পর্কে না জানা বা অজ্ঞতা। এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, যেসকল পিতা-মাতা সন্তানের কাছ থেকে ভরণ-পোষণ পাচ্ছেন না তারা এবং তাদের সন্তানরা এই আইন সম্পর্কে জানেন না।  সন্তানরা এই আইন সম্পর্কে জানলে শাস্তির ভয়ে হলেও বৃদ্ধ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বিষয়ে সচেতন হতো। আইন জানা থাকলে পিতা বা মাতা কোনো না কোনোভাবে হয়তো থানায় বা আদালতে হাজির হতেন। এই আইন সম্পর্কে যত জানানো যাবে ততই মানুষ সচেতন হবে।
পরিশেষে একটা কথা না বললেই নয়,  পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনে বর্ণিত অধিকার ও কর্তব্যসমূহ সম্পর্কে প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন হতে হবে। মানুষ আইনের বিধান সম্পর্কে সচেতন হলে আইনের বাস্তবায়ন সামাজিক দায়বদ্ধতায় পরিণত হবে। তখন সমাজের একজন আইন মানতে না চাইলে অন্যরা তাকে বাধ্য করবে আইন মানার জন্য।

বৈধ বিয়ের সাথে কাবিননামা বা বিয়ে রেজিস্ট্রির কোন সম্পর্ক নেই

মমতাজ বেগম ও আনোয়ার হোসেন ইসলামী শরিয়ত মতে বিয়ে করে ঘর-সংসার করতে থাকেন। কিন্তু তাদের মধ্যে বিয়ের কোনো কাবিননামা বা বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়নি। এক পর্যায়ে আনোয়ার হোসেন মমতাজ বেগমের কাছে যৌতুক দাবি করে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। মমতাজ বেগম তার ভরণপোষণ এবং দেনমোহর চেয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করেন। আনোয়ার হোসেন বিয়েকে অস্বীকার করে আদালতে জবাব দাখিল করেন। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে পারিবারিক আদালত আদেশ দেয়, তাদের মধ্যে বিয়ের অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে। পারিবারিক আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ আনোয়ার হোসেন ১৯৯৬ সালে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করেন। হাইকোর্ট বিভাগের একটি একক বেঞ্চ ১৯৯৯ সালে পারিবারিক আদালতের আদেশটি খারিজ করে দেন। হাইকোর্ট বিভাগ তার রায়ে বলেন, তাদের মধ্যে কোনো প্রকার কাবিননামা সম্পন্ন হয়নি যা বিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং মমতাজ বেগম তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। হাইকোর্ট বিভাগের এ রায়ের বিরুদ্ধে মমতাজ বেগম লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) দায়ের করেন এবং আপিল মঞ্জুর হয় তিনটি বিষয়কে বিবেচনা করে।

১. মুসলিম আইন অনুযায়ী বিয়ে রেজিস্ট্রি না হলে এটি বাতিল, অবৈধ বা অস্তিত্বহীন কি-না;

২. তিন বছর ধরে তাদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করা এবং বসবাসের শর্ত বৈধ বিয়ে হিসেবে গণ্য হবে কি-না;
৩. হাইকোর্ট বিভাগ রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগ করে নিম্ন আদালতের আদেশ এবং পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে বৈধ বিয়ের অস্তিত্বের বিষয়ে বিবেচনা করেছেন কি-না।

অবশেষে ৩১ জুলাই ২০১১ তারিখে আপিল বিভাগ মমতাজ বেগমের পক্ষে রায় দেয়। মমতাজ বেগম বনাম আনোয়ার হোসেন মামলায় আপিল বিভাগের রায়ে বিচারপতি এস কে সিনহা মন্তব্য করেন, মুসলিম নর ও নারী যদি স্বামী ও স্ত্রীর পরিচয়ে দীর্ঘদিন বসবাস করেন এবং তাদের মধ্যে যদি রেজিস্ট্রিকৃত কাবিননামা না-ও হয়ে থাকে, তাহলেও এখানে বৈধ বিয়ের অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকতে পারে। তারা উভয়ে স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের মধ্যে মুসলিম আইন অনুযায়ী বৈধ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলেও গণ্য হতে পারে। সুতরাং কাবিননামা ছাড়া স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করলে বৈধ বিয়ের অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকতে পারে।(৫১ ডিএলআর ৪৪৪)

ভারতের কেরালার একটি পারিবারিক আদালতে এক নারী ভরণ পোষণের দাবিতে মামলা করেন যেখানে বাদীর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত পন্থায় এক ছাদের নিচে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করছিলেন তিনি। বিয়ে সম্পর্কিত কোনো দালিলিক প্রমাণ না থাকায় নিম্ন আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। কিন্তু কেরালা হাইকোর্টে বিচারপতি সি এস কারনান এ সিদ্ধান্তকে নাকচ করে বিবাহের সংজ্ঞায় যুগান্তকারী ও যুগোপযোগী এক সিদ্ধান্ত দেন। বলা হয়, আইনে সংজ্ঞায়িত প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে যদি বিবাহপূর্ব কোনো শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয় এবং একত্রে বসবাস করে সে ক্ষেত্রে এটিকে ‘বিবাহ’ হিসেবে ধরা হবে এবং একত্রে বসবাসকারী ছেলে-মেয়েদের ‘স্বামী-স্ত্রী’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আদালত তার রায়ে আরো বলেন, যখন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েরা এভাবে একে অপরের সঙ্গে বসবাস করবে তখন তাদের উভয়ে বা কোনো একজন ওই বসবাসকে ‘বিয়ে’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য ‘ঘোষণামূলক মোকদ্দমা’ দায়ের করতে পারবে এবং সে অনুযায়ী সরকারি সব রেজিস্ট্রারে তাদের নাম স্বামী-স্ত্রী গণ্য করতে হবে যেখানে স্বামী-স্ত্রীর সব অধিকার ও দায়দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তাবে।

আইন অনুসারে বিয়ে একটি দেওয়ানী চুক্তি। অন্যান্য চুক্তির মতোই এতে দুটি পক্ষ থাকে। একপক্ষ বিয়ের প্রস্তাব করে ও অপরপক্ষ তা গ্রহণ করে। ডি এফ মোল্লা তাঁর ‘মুসলিম আইনের মূলনীতি’ বইয়ে বিবাহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন “বিবাহ বা নিকাহ এমন একটি চুক্তি যার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হলো বৈধভাবে সন্তান লাভ ও প্রতিপালন। বিচারপতি মাহমুদ তাঁর ‘আঃ কাদির ও সালিসী মোকদ্দমার রায়ে বলেছেন ‘মুসলিম বিবাহ কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, একটি বিশুদ্ধ দেওয়ানী চুক্তি যার উদ্দেশ্য পারিবারিক জীবন যাপন ও বৈধ সন্তান দান।’

শরীয়া আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করে বিয়ে সম্পূর্ণ হলে, বিয়ে রেজিস্ট্রি না হলেও বিয়ে অবৈধ হবে না। তবে বিয়ে হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এক্ষেত্রে মোঃ চান মিয়া বনাম রূপনাহার মামলায় হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দেন যে- অন্যকোনভাবে বিয়ে বৈধ হলে, কাবিননামা না থাকলে বা বিয়ে রেজিস্ট্রেশন না হলে উক্ত বিয়েকে অবৈধ বলে গণ্য হবে না। (৫১ ডিএলআর ২৯২)

ডা. এ আই এম আবদুল্লাহ বনাম রোকেয়া খাতুন মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন বিয়ে কোনভাবেই বিয়ের বৈধতাকে আঘাত করে না। কিন্তু বিয়ে নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক সৃষ্টি করে। (২১ ডিএলআর ২১৩)

১৯৬১ সালে প্রণীত মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী, বিবাহ করতে ইচ্ছুক পক্ষদ্বয়কে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক-বয়স্কা এবং সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুরুষের বয়স ন্যূনতম ২১ বছর এবং স্ত্রীলোকের বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। বিয়ের জন্য ছেলে ও মেয়ের উভয়ের অবশ্যই স্বাধীন সম্মতি থাকতে হবে। বিবাহ করতে ইচ্ছুক পক্ষদ্বয়ের মধ্যে এক পক্ষকে প্রস্তাব দিতে হবে এবং অপর পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করতে হবে। প্রস্তাব দান ও গ্রহণ একই মজলিসে কমপক্ষে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন পুরুষ সাক্ষী কিংবা একজন পুরুষ ও দু’জন মহিলা সাক্ষীর সামনে হতে হবে। তবে সাক্ষীগণকে একই মজলিসে হাজির থাকতে হবে। এটিই বিবাহ বন্ধন সংগঠিত হওয়ার মূল শর্ত। তবে বল প্রয়োগে সম্মতি আদায়ে বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে বলে এ বিষয়ে ২১ ডিএলআর এ ২১৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন, ১৯৭৪ এর ৩ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিটি বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রেশন) আইন, ১৯৭৪ এর ৫ ধারা অনুযায়ী বিয়ে সম্পাদনের পর তাৎক্ষণিক বা ৩০ দিনের মধ্য বিয়ে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। আর যদি কেউ বিয়ে রেজিষ্ট্রি না করেন তাহলে আইন কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি হচ্ছে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা আর্থিক জরিমানা যা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে অথবা উভয় ধরনের শাস্তিই হতে পারে। পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর ধারা-৫ প্রয়োগের ক্ষেত্রেও বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না হলে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে, বিবাহের বৈধতা নিয়ে এমনকি খোরপোষ ও মোহরানার দাবি অগ্রাহ্য হতে পারে। কাবিননামায় উভয় পক্ষের স্বাক্ষর ছাড়া মুসলিম বিয়ে আইনসম্মত গণ্য করা যায় না বলে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে, যা ৫০ ডিএলআর ১৮১ পৃষ্টায় উল্লেখ রয়েছে।

যদি কেউ এ আইন অমান্য করেন তাহলে ভূক্তভোগী একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। কারণ একটি বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করলে তার অনেক সুফল পাওয়া যায়। যেমন, ১। বিয়ের পক্ষদ্বয় বিয়ে অস্বীকার করতে পারে না এবং পরস্পর পরস্পরের প্রতি কিছু দায়-দায়িত্ব পালনে বাধ্য হয়, ২। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে বা স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে বিয়ে করলে বা করার উদ্যোগ নিলে স্ত্রী আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন, ৩। স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রী দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায় করতে পারেন, ৪। স্বামী/স্ত্রী উভয়ে উভয়ের সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকার হতে পারেন, ৫। বিয়ের সময় দেনমোহর ধার্য না হলেও স্ত্রী ন্যায্য দেনমোহর আদায় করতে পারেন। এছাড়া কাবিবনামা প্রমান না হলে বিয়ে প্রমাণিত গণ্য হবে না বলে ৫৭ ডিএলআর এর ৭১৮ পৃষ্টায় উল্লেখ আছে।

বিয়ে রেজিস্ট্রি বা কাবিননামা না থাকলে এ ক্ষেত্রে ডিএফ মোল্লার ২৫২ নং প্যারাগ্রাফে উল্লিখিত বিয়ের অত্যাবশকীয় উপাদান গুলো যেমন-ইজাব, কবুল ও বিবাহের সাক্ষীর উপস্থিতি যদি সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করা যায়, তাহলে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা না হলেও উক্ত বিয়ে বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং কেউ শরীয়তের শর্তসমূহ- প্রস্তাব প্রদান ও প্রস্তাবে সম্মতি বা কবুল, পক্ষদের স্বাধীন সম্মতি এবং সাক্ষীর উপস্থিতির মাধ্যমে মৌখিক চুক্তি করে দীর্ঘদিন লিভ টুগেদার করলে নিয়মিত বিয়ে গণ্য হবে।

মামলা ছাড়াই জমির যে ভুলগুলো সহজেই সংশোধন করা যায়

 আপনি জমি কিনেছেন, জমির দলিল আছে, যুগ যুগ ধরে জমি ভোগদখল করে আসছেন, কিন্তু জমির রেকর্ড ভুলবশত অন্য কারও নামে হয়ে আছে কিংবা কম রেকর্ড হয়েছে কিংবা জমির দাগ ভুলভাবে রেকর্ড হয়েছে কিংবা ১নং খাস খতিয়ানে কিংবা অর্পিত তালিকায় চলে গেছে কিংবা ম্যাপের সংগে রেকর্ডের ভুল হয়েছে। নো টেনশন। আপনি সহজেই আপনার জমির এ সমস্যাগুলো সমাধান করিয়ে নিতে পারবেন।

২০১৪ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করে বলেন যে, জমির উপরোক্ত সমস্যা সমাধানে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ব্যাপকহারে মামলা হচ্ছে, যা রীতিরকম উদ্বেগজনক। ফলে সমস্যাগুলো সমাধানে তিন প্রকারের কর্তৃপক্ষ তিন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহনে আইনত ক্ষমতা দিয়ে পরিপত্র জারি করেন। কিন্তু দুঃখের সাথে জানাতে হয় কর্তৃপক্ষগণ মোটেও এ সমস্যা সমাধানে কোনরুপ আগ্রহ দেখান না।

প্রথমত, সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তা বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্টেট অ্যাকুইজেশন অ্যান্ড টেনান্সি অ্যাক্ট ১৯৫০’র ১৪৩ ধারামতে এবং প্রজাস্বত্ব বিধিমালা ১৯৫৫-এর বিধি ২৩(৩) অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত রেকর্ডের করণিক ভুল (ক্ল্যারিকাল মিসটেকস) যেমন-নামের ভুল, অংশ বসানোর হিসেবে ভুল, দাগসূচিতে ভুল, ম্যাপের সঙ্গে রেকর্ডের ভুল ইত্যাদি নিজেই সংশোধন করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, স্টেট অ্যাকুইজেশন অ্যান্ড টেনান্সি অ্যাক্ট ১৯৫০’র ১৪৯(৪) ধারামতে ভূমি প্রশাসন বোর্ড বোনাফাইড মিসটেক যেমন-জরিপকালে পিতার মৃত্যুর কারণে সন্তানদের নামে সম্পত্তি রেকর্ড হওয়ার কথা থাকলেও জরিপকারকদের ভুলে তা হয়নি- এমন ভুল সংশোধন করতে পারেন। আবার ভূমি আপিল বোর্ডেরও এ ধরনের ভুল সংশোধনের ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এগুলোর কোনো প্রয়োগ নেই। ভুক্তভোগীরা এসব জায়গার প্রতিকার চাইতে গেলে তাদের ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আবার আপনার জমি খাসজমি হিসেবে রেকর্ড হলে ভোগান্তির শেষ নেই। ভুলক্রমে কোনো ব্যক্তির জমি ১ নাম্বার খাস খতিয়ানে (গ্রামের ভাষায় ডিসি’র নামে) অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে অর্থাৎ সরকারি খাস জমি হয়ে গেলে তাকে আদালতের মাধ্যমেই নাম সংশোধন করতে হয়। আদালতে ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর অনেক সময় সমন পাওয়ার পরও সরকারের পক্ষ থেকে (জেলা প্রশাসনের পক্ষে) কেউ আদালতে হাজির হয় না। ফলে সরকারের বিপক্ষে একতরফা ডিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু সরকারের বিপক্ষে একতরফা ডিক্রি গ্রহণযোগ্য নয় বলে এডিসি (রেভিনিউ) নামজারি প্রক্রিয়া বন্ধ রেখে আপিল দায়ের করেন।
আবার জরিপ চলাকালীন ভুল ধরা পরলে তখন সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট ৩০ ধারা/৩১ ধারায় আপিল করে খুব সহজেই ভুলগুলো সংশোধন করে নেওয়া যায়। কিন্তু যদি এই সময়ের মধ্যে ভুলগুলো সংশোধন করা না হয় এবং চূড়ান্ত খতিয়ান প্রকাশিত হয়ে যায়, তবে উক্ত খতিয়ান সংশোধনের ক্ষমতা আর সেটেলমেন্ট অফিসারের থাকে না তখন এই খতিয়ান সংশোধন করতে হয় কোর্টে মামলা করে। তবে চূড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশিত হয়ে গেলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেটেলমেন্ট অফিসার রেকর্ড সংশোধন করতে পারে, যেমন উক্ত ভুলগুলো যদি হয় শুধুমাত্র কারণিক ভুল/ প্রিন্টিং -এ ভুল সেক্ষেত্রে এ ধরনের সামান্য ভুলগুলো অবশ্য সেটেলমেন্ট অফিসার সংশোধন করতে পারে। খতিয়ান বা খসড়া খতিয়ানে কোন ভুল-ক্রুটি থাকলে বা এ সম্পর্কে কারও কোন আপত্তি বা দাবি থাকলে, প্রজাস্বত্ব বিধি ৩০ অনুযায়ী আপত্তি দাখিল করতে হবে।
অত্র আপত্তি দাখিল করতে হবে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে ৪০ টাকার কোর্ট ফি দিয়ে। অফিসার প্রয়োজন মনে করলে খতিয়ান ও নকশা সংশোধন, পরিবর্তন বা পূর্বাবস্থায় বহাল রাখার বিষয়ে রায় প্রদান করবেন এবং অবশ্যই রায় মোতাবেক রেকর্ড সংশোধন করবেন। আপত্তি কেসের রায়ে যদি কেউ অসন্তুষ্ট হয় তবে সেই প্রেক্ষিতে তিনি প্রজাস্বত্ব বিধিমালার ৩১ বিধি অনুসারে রায় প্রদানের ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে ও নির্ধারিত ফি প্রদান করে সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট আপিল করতে পারেন। আপীল আবেদনের সাথে আপত্তি কেসের রায়ের কপি দাখিল করতে হবে। সেটেলমেন্ট অফিসার বা তার মনোনীত অন্যকোন আপিল অফিসার সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে নোটিশ প্রদান করে শুনানীর মাধ্যমে দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করবেন। সর্বশেষ আপিল রায় মোতাবেক খতিয়ান ও নকশা সংশোধন করা হয়।

উপরোক্ত কাজগুলো করেও আপনি যদি ব্যর্থ হন তাহলে খতিয়ান সংশোধন করতে উক্ত জমিতে আপনার মালিকানার সকল দলিল পত্র (যেমন-মূল দলিল, বায়া দলিল, পূর্বের খতিয়ানের কপি), চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত ভুল রেকর্ডের কপি, নিজের আইডি কার্ডের ফটো কপি, প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র নিয়ে এখতিয়ারধীন কোর্টে গিয়ে একজন দক্ষ সিভিল ল’ইয়ার কে উক্ত খতিয়ানটি সংশোধানের দায়িত্ব দিতে হবে। তিনি আপনার এ কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করে দেবেন। কিন্তু আদালত থেকে কোনো ব্যক্তি ডিক্রি পেলে সেই মোতাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা রেকর্ড সংশোধনের উদ্যোগ নেবেন এটাই আইন। সেখানেও রয়েছে নানা জটিলতা। আইন আছে, প্রয়োগ নেই। ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ প্রবাদটি দিয়েই লেখাটির ইতি টানলাম।

প্রেম ভালবাসা করে পালিয়ে বিয়ের নিয়মাবলী ও বাস্তবতা

 আইনজীবী হিসেবে অনেকে জানতে চান প্রেম করে নিজেদের ইচ্ছেমতো বিয়ে করা যায়-কি-না, সেই বিয়ে করার নিয়মাবলী কি, কোর্ট ম্যারেজ কি, কোর্টে গিয়ে বিয়ে করার নিয়ম কি, কাজী অফিসে কখন যেতে হয়, এরকম বিয়ে পরবর্তী আইনী ঝামেলায় প্রতিকার কি, পিতা-মাতা মামলা করলে সেই মামলার ফলাফল কি, এ জাতীয় বিয়েতে কত টাকা খরচ হয়-এসব প্রশ্নের আইনী আলোচনায় আজকের নিবন্ধ।

প্রেম-ভালবাসাতো স্বর্গীয়। অনেক সময় ছেলেমেয়েরা তাদের ভালবাসাকে বাস্তবে রুপ দিতে একে অপরকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় উভয় পরিবারের পিতা-মাতা আত্মীয় স্বজন। অবশেষে তারা পালিয়ে গিয়ে যে কোন পন্থা অবলম্বন করে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। সাবালক-সাবালিকা হিসেবে তাদের এ ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়ার আইনগত ক্ষমতা আছে।

এখন জেনে নেয়া যাক কোর্ট ম্যারেজ কি? কোর্ট ম্যারেজ বলতে সাধারণত হলফনামার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিয়ের ঘোষণা দেওয়াকেই বোঝানো হয়ে থাকে। এ হলফনামাটি ২০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখে নোটারি পাবলিক কিংবা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। এটি বিয়ের ঘোষণা মাত্র। যে ধর্মেই হোক না কেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক আইন অনুযায়ী প্রথমে বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। তারপর তাঁরা ইচ্ছা করলে এ হলফনামা করে রাখতে পারেন। মুসলিম আইনে বিয়ে নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। হিন্দু আইনে বিয়ে নিবন্ধন ঐচ্ছিক করা হয়েছে। ছেলেমেয়ে মুসলমান হলে কাবিননামা সম্পন্ন করে না থাকলে স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে দাবি করতে গিয়ে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

পালিয়ে বিয়ে করলে পিতা-মাতার পক্ষ থেকে যে মামলা হতে পারে, সে বিষয়ে জানা যাক। বিয়ের প্রথম শর্ত হচ্ছে ছেলে-মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। ছেলের বয়স ২১ ও মেয়ের বয়স ১৮-এর ১ দিনের কম হলেও বয়স গোপন করে বিয়ে করলে মামলা-মোকদ্দমায় পড়ার আশঙ্কা থাকবে। বিশেষ করে মেয়ের বয়স ১৮-এর কম হলে মেয়ের অভিভাবক অপহরণের মামলা ঠুকে দিলে ছেলেটির জেল-হাজতে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার মেয়েটি আদালতে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছে মর্মে জবানবন্দি দিলেও প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ হেফাজতেও থাকা লাগতে পারে।

কাজেই নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করতে হলে আইন-কানুনও মানতে হয়। তবে মেয়ে যদি প্রাপ্তবয়স্ক হন, তাহলে অপহরণের মামলা করেও কোনো লাভ হয় না। বরং মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে মামলা দায়েরকারীকেই উল্টো সাজা পেতে হয়। মামলা হলে মেয়েটিকে জবানবন্দী দিতে হবে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-এর সামনে। এটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারার জবানবন্দি নামে পরিচিত। এটি ম্যাজিস্ট্রেট-এর চেম্বারে হয়, কাজেই মেয়েটির উপর কেউ কোন প্রভাব খাটাতে পারেনা। মেয়েরা সাধারণত বলে থাকে “আমি স্বেচ্ছায়-স্বজ্ঞানে আমার ভালবাসার মানুষকে বিয়ে করেছি, আমাকে কেউ অপহরণ করেনি। কাজেই যুবক-যুবতি বা নারী-পুরুষ স্বামী-স্ত্রী হিসাবে একত্রে বসবাস করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে যে হলফনামা সম্পাদন করে থাকে, সেটাই কোর্ট ম্যারেজ নামে পরিচিত। তবে কোর্টে আপনি যাবেন ঠিকই, শুধুমাত্র কাজীর কাছে করা বিয়ের আইনি নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে। এক্ষেত্রে আগেই আপনাকে কাজীর কাছে গিয়ে রেজিস্ট্রী কাবিনমুলে বিয়ে করতে হবে তারপর নোটারী পাবলিকের কাছে গিয়ে হলফনামা সম্পাদন করে নেবেন।

মনে রাখবেন, বল প্রয়োগে সম্মতি আদায়ে বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে বলে এ বিষয়ে ২১ ডিএলআর এ ২১৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে। কাবিননামায় উভয় পক্ষের স্বাক্ষর ছাড়া মুসলিম বিয়ে আইনসম্মত গণ্য করা যায় না বলে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে, যা ৫০ ডিএলআর ১৮১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে।

এবার বিয়ের খরচাপাতি সম্পর্কে জেনে নিই। বিবাহ রেজিস্ট্র্শন ফি দেনমোহরের ওপর নির্ধারণ হয়ে থাকে। দেনমোহরের প্রতি হাজারে বর্তমানে ১২.৫০ টাকা হারে ফি নিকাহ্ রেজিস্ট্রাররা সরকার নির্ধারিত রশিদ প্রদানের মাধ্যমে গ্রহণ করে থাকেন। পূর্বে দেনমোহর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফি চার হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা ছিল। তবে বর্তমানে তা আর প্রযোজ্য নয়। রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়া হলে নিকাহ্ রেজিস্টার একটি প্রাপ্তি রশিদ দিবেন। রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাগজ স্বামী ও স্ত্রী দুজনের কাছেই রাখতে হবে। অন্যথায় স্ত্রী সমস্যায় পরলে আদালতের কাছে সাহায্য চাইতে পারবেন না। উল্লেখ্য রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধের দায়িত্ব বরপক্ষের। সরকার সময়ে সময়ে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই ফি পরিবর্তন ও ধার্য্য করে থাকে। তবে রেজিষ্ট্রি কাবিননামা না থাকলেও মুসলিম বিয়ে বৈধ হতে পারে।

বিয়ে তো করবেন! সাক্ষী ছাড়া কি বিয়ে হবে? নাহ সাক্ষী লাগবে অবশ্যই। বিয়ের জন্য প্রাপ্ত বয়স্ক ২ জন পুরুষ অথবা ১ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা সাক্ষী থাকতে হবে। মনে রাখবেন যে কোন রেজিস্ট্রিার্ড কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রার্ড করা যায়। আর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা এক্ষেত্রে নিজ নিজ ধর্ম মতে বিয়ে করতে পারবেন। এবং নোটারী পাবলিকের কাছে গিয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে বিয়ের নিবন্ধন করতে পারবেন।

এবার জেনে নিই হিন্দু বিয়ে সম্পর্কে। হিন্দু বিয়েতে এখন পর্যন্ত বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়নি। হিন্দু বিয়েতেও নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে প্রাপ্ত বয়সী ছেলেমেয়ে হলফনামার মাধ্যমে বিয়ের ঘোষণা দিয়ে থাকে মাত্র। যা পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়ে থাকে।

তালাক প্রদানের সাথে দেনমোহর পরিশোধের সম্পর্ক কি?

 আইনজীবী বিধায় অনেকে জানতে চান স্ত্রীকে তালাক দেয়ার সময় দেনমোহর পরিশোধ করার প্রয়োজনীয়তা আছে কি-না? সহজ উত্তর, না। তালাক প্রদান এবং দেনমোহর পরিশোধ দুটি ভিন্ন জিনিস। আবার অনেকে জানতে চান, স্ত্রী তালাক দিলে দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে কি-না? সহজ উত্তর- যে পক্ষ থেকেই তালাক দেয়া হোক না কেন, দেনমোহরের টাকা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।

আপনার স্ত্রীকে তালাকের পর কিংবা তালাকের আগে দেনমোহর পরিশোধ করতে পারবেন। কারণ দেনমোহর স্বামীর ঋণ, যা স্বামী তাঁর স্ত্রীকে পরিশোধ করতে বাধ্য। ‘সহবাসের আগে এবং পরে স্ত্রী স্বামীর কাছে দেনমোহর দাবি করতে পারে এবং স্বামী পরিশোধে ব্যর্থ হলে স্ত্রী সহবাসে যেতে অস্বীকার করতে পারেন বলে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে।’

বিয়ের পর স্বামী তার স্ত্রীকে অনেক কিছুই দিতে পারে। স্বামী যদি দেনমোহর হিসেবে স্ত্রীকে কিছু দেয়, তবেই তা দেনমোহর বলে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে ‘দেনমোহর বাবদ’ কথাটি লেখা থাকতে হবে। যেমনঃ জমি হস্তান্তর দলিলে ‘দেনমোহর বাবদ’ কথাটি লেখা না থাকলে এরূপ জমি প্রদান দেনমোহর হিসেবে ধরা হবে না। যা রওশন আরা বেগম বনাম মাসক আহমেদ মামলায় ২৩ বি.এল.ডি. পৃষ্ঠা- ৩০২ এ উল্লেখ রয়েছে। তবে মোহরানার পরিবর্তে হিবা বিল এওয়াজের রীতিও রয়েছে। ১৯৫৫ সালে ঢাকা হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, মোহরানার পরিবর্তে হিবা-বিল-এওয়াজ তখনই বৈধ হবে যখন স্ত্রী কোনো প্রতিদান ছাড়াই স্বামীকে মোহরানা দান করে দেয় এবং পরে স্বামী স্ত্রীর দানের ‘এওয়াজ’ স্বরূপ কোন সম্পত্তি আলাদাভাবে দান করে। কারন এটা মুসলিম আইনে একটি বিশুদ্ধ হিবা বিল এওয়াজ। এমনকি স্বামী যদি স্ত্রীকে কোন কিছু দান করেন এবং স্ত্রী স্বামীর বরাবরে প্রতিদান স্বরূপ অন্য কোন দলিল মূল্যে মোহরানার অধিকার ছেড়ে দেয় তবে তা আধুনিক প্রকৃতির একটি হিবা বিল এওয়াজ বলে গন্য হবে বলে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

দেনমোহরের পরিবর্তে স্ত্রীর বরাবর সম্পত্তি হস্তান্তর একশত টাকা মূল্যের অধিক হলে অবশ্যই রেজিস্ট্রি দলিল দ্বারা হস্তান্তর করতে হবে। বিয়ের সময়ে দেয়া শাড়ী, গয়না ইত্যাদি কখনো দেনমোহরের অংশ হিসাবে বিবেচিত হবেনা। অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের সময় গয়না, শাড়ি ইত্যাদির মূল্য দেনমোহরের একটি অংশ ধরে উসুল লিখে নেয়া হয়। আসলে বিয়েতে দেয়া উপহার বা উপঢৌকন দেনমোহর নয়। এগুলোকে দেনমোহরের অংশ বলে ধরা যাবে না এবং উসুল বলা যাবে না বলে আঃ কাদের বনাম সালিমা, ৮ ইন্ডিয়ান ল রিপোর্টস. পৃষ্ঠা-১৪৯ এ উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে স্ত্রী আগে তালাক দিলে কি দেনমোহর দিতে হয় কি-না? স্ত্রী যেহেতু নিজ ইচ্ছা থেকে এবং নিজে উদ্যোগী হয়ে তালাক দিচ্ছেন, তাই তাঁর দেনমোহরের টাকা না দিলেও চলবে এটি ভুল ধারণা। মনে রাখতে হবে, স্বামী বা স্ত্রী যিনিই তালাক দিন না কেন, দেনমোহরের টাকা অবশ্যই স্ত্রীকে দিতে হবে। তবে বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য জীবনযাপন না হলে কিংবা স্বামীর মৃত্যু হলে দেনমোহরের অর্ধেক পরিশোধ করা যাবে। স্ত্রী আগে মারা গেলেও দেনমোহর মাফ হয় না। স্ত্রীর উত্তরাধিকারীরা এই দেনমোহরের হকদার। তারাও মামলা করার অধিকার রাখে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে তালাকের পর কিভাবে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করবেন। সহজ উত্তর, আপনি সরাসরি তাকে দেনমোহরের টাকা দিয়ে পরিশোধ লিখিয়ে নিতে পারবেন অথবা পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে মানি অর্ডার যোগে আপনার স্ত্রীর বসবাসরত ঠিকানায় টাকা পাঠিয়ে দিতে পারবেন। আরেকটি পথ হচ্ছে, তালাকের পর চেয়ারম্যান যখন শালিশী পরিশোধে সমঝোতার ব্যবস্থা করবে, তখন সমঝোতার ভিত্তিতেও দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করিয়ে দিতে পারবেন। আর যদি তালাকের পর আপনি দেনমোহর পরিশোধ না করেন, তাহলে স্ত্রী কিন্তু দেনমোহর চেয়ে পারিবারিক আদালতে আপনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারবেন। এ মামলায় আপনি নোটিশ প্রাপ্তির পর একজন আইনজীবীর মাধ্যমে মামলায় প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে পারবেন নতুবা টাকা দেয়ার সদিচ্ছা থাকলে আদালতকে বলে দেনমোহরের টাকা স্ত্রীকে পরিশোধ করিয়ে দিতে পারবেন। অনেকের সদিচ্ছা না থাকায় মামলা প্রতিযোগিতা করে এবং মামলার ডিক্রির টাকা বেশী হলে সাধারণতঃ জেলা জজ আদালতে আপিল করে থাকেন। এখানে উল্লেখ্য যে, জেলা জজ আদালতের রায় হলেও আপনি আদালতের অনুমতিক্রমে দেনমোহরের টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন। তবে এতে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা তুলতে সময় ও কষ্ট দুটোই লেগেই যায়।

কাবিননামা বা বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করা না হলে বিয়ের ফলাফল ও বিয়ের বৈধতা...

 বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন করার বিধানটি ইসলামিক শরীয়া আইন থেকে উদ্ভূত নয়। এটি একটি বিধিবদ্ধ রাষ্ট্রীয় আইন। বিবাহ রেজিষ্ট্রেশনের বিধানটি করা হয়েছে মূলত কয়েকটি উদ্দেশ্য-

১. বাল্যবিবাহ রোধ করা
২. স্ত্রী’র অধিকারের আইনি স্বীকৃতি প্রদান
৩. পিতৃত্বের পরিচয় ও বৈধতা নির্ধারণ করা ইত্যাদি।
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রেশন) আইন, ১৯৭৪ এর ৩ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিটি বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। মুসলিম বিবাহ ও তালাক(রেজিষ্ট্রেশন) আইন, ১৯৭৪ এর ৫ ধারা অনুযায়ী বিয়ে সম্পাদনের পর তাৎক্ষণিক বা ৩০ দিনের মধ্য বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন না করা হলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। কেউ বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন না করলে উক্ত অপরাধের শাস্তি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ৩০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়। পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর ধারা-৫ প্রয়োগের ক্ষেত্রেও বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন না করা হলে বিবাহ সম্পাদন এবং বৈবাহিক সম্পর্ক উদ্ভূত অধিকার ও কর্তব্যগুলোর ক্ষেত্রে সন্দেহের অবকাশ সৃষ্টি হয়।
এখন প্রশ্ন কাবিনানামা না থাকলে বা রেজিষ্ট্রেশন করা না হলে বিয়ে অবৈধ বলে গণ্য হবে কিনা?

এটা উত্তর হচ্ছে শরীয়া আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করে বিয়ে সম্পূর্ণ হলে, বিয়ে নন-রেজিস্ট্রেশনের কারনে বিয়ে অবৈধ হবে না। তবে নন-রেজিস্ট্রেশনের কারনে বিয়ে হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
এক্ষেত্রে মোঃ চান মিয়া বনাম রূপনাহার ৫১ ডিএলআর ১৯৯৯(HCD)292 মামলায় হাইকোর্টের অভিমত প্রণিধানযোগ্য। উক্ত মামলায় হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দেয়- অন্যকোনভাবে বিয়ে বৈধ হলে, কাবিননামা না থাকলে বা বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন না হলে উক্ত বিয়েকে অবৈধ বলে গণ্য হবে না।অর্থাৎ শরীয়া আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করা হলে বিয়ে বৈধ এবং বিয়ে নন-রেজিষ্ট্রেশনের কারনে অবৈধ হয় না।

ডা. এ আই এম আবদুল্লাহ বনাম রোকেয়া খাতুন ২১ ডিএলআর ২১৩ মামলায় হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দেন- বিয়ের নন-রেজিস্ট্রেশন বিয়ের বৈধতাকে আঘাত করে না। কিন্তু বিয়ের নন-রেজিস্ট্রেশন বিয়ে নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক সৃষ্টি করে।
সুতরাং বলা যায়, কাবিননামা না থাকলে বা বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা না হলে উক্ত বিয়ে অবৈধ নয়।

শরীয়া আইন অনুযায়ী কাবিননামা অত্যাবশকীয় উপাদান নয় বিধায় এটির অনুপস্থিতর কারনে বিয়ে অনিয়মিতও হয় না। তবে কাবিননামা না থাকলে বিয়ে আসলে হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে।

এখন অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে, কাবিননামা না থাকলে তখন কিভাবে বিয়ে প্রমাণ করা যাবে?

বিয়ে যে হয়েছে সেটার সুনির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত প্রমাণ হচ্ছে কাবিননামা। এখন কেউ যদি দাবী করে- তার বিয়ে হয়েছে কিন্তু কাবিননামা নেই৷ সেক্ষেত্রে বিয়ে হয়েছে সেটা প্রমানের ভার তার। এক্ষেত্রে বিয়ের শর্তসমূহ পূরণ হয়েছে বা বিয়ে হয়েছে তার স্বপক্ষে তাকে সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হবে। আনোয়ার হোসেন বনাম মমতাজ বেগম ৫১ ডিএলআর (HCD) 444 মামলায় হাইকোর্ট আনরেজিষ্টার্ড বিয়ে ক্ষেত্রে ডিএফ মোল্লার ২৫২ নং প্যারাগ্রাফে উল্লিখিত বিয়ের অত্যাবশকীয় উপাদান গুলো সাক্ষ্য দিয়ে সুস্পষ্ঠভাবে প্রমাণের কথা উল্লেখ করেন। ইজাব, কবুল ও বিবাহের সাক্ষীর উপস্থিতি যদি সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করা যায়, তাহলে বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করা না হলেও উক্ত বিয়ে বৈধ।

দীর্ঘ সময় ধরে চলমান লিভ টুগেদার কী বিয়ে হিসেবে প্রমাণ করা যাবে কিনা বা গণ্য হবে কিনা?

এক্ষেত্রে উত্তর হচ্ছে – না। কাবিননামা না থাকার কারনে, কেউ যদি বলে- তারা দীর্ঘদিন একসাথে থাকে বা লিভ টুগেদার করে। এই একসাথে থাকা বা লিভ টুগেদার বিয়ের প্রমাণ নয় এবং কাবিননামা কে এটা দিয়ে খন্ডন করা যাবে না।
কাবিননামার অনুপস্থিতিতে বিয়ে প্রমাণের জন্য তাকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে শরীয়তের শর্তসমূহ- প্রস্তাব প্রদান ও প্রস্তাবে সম্মতি বা কবুল, পক্ষদের স্বাধীন সম্মতি এবং সাক্ষীর উপস্থিতি।
সুতরাং বলা যায়, কাবিননামা না থাকলে বা বিয়ে রেজিস্ট্রেশন না করলে বিয়ে অবৈধও হয়না, অনিয়মিতও হয়না। বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন না করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

বর্তমান বাংলাদেশের বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন পদ্ধতিগতভাবে কিছুটা জটিল। বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন পদ্ধতিকে ডিজাটালাইজেশন বা প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজীকরণ করা খুবই জরুরি। মোবাইল এ্যাপস বা ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন বা কাবিননামা সম্পাদন ও সম্পাদিত কাবিননামা প্রাপ্তি সহজীকরন করলে কাবিননামা সংক্রান্ত সমস্যাসমূহ সহজে দূর করা যাবে।

Sunday, 24 September 2017

Article 95(2) of the Constitution revisited

Article 95(2) of the Constitution revisited

                                        - Advocate Mohammad Rayhan Uddin 



JUDICIARY is considered to be a neutral organ of a society. It is vested with the task of dispensation of justice according to law. People resort to the judiciary to get legal and equitable remedy to redress their grievances. But a doubt is cast upon the efficacy of this least dangerous organ of the state if appointment procedure of the judges is saddled with extraneous considerations rather than qualification.

Judiciary is probably the only organ among all the State functionaries where a person plays the most crucial role from his or her individual perspective and s/he can personally feature most in discharging his/her duties. Once a judge is appointed in the Supreme Court with manipulation, political or otherwise, s/he can cause enormous harm to the institution as well as the nation specially when the Constitution guarantees security of his/her tenure and due to lack of transparent system of ensuring accountability of a judge.

When the Constitution talks about independence of judiciary, it emphasises on the independence of the individual judge rather than the institution. Article 94(4) reads “…the Chief Justice and the other Judges shall be independent in the exercise of their judicial functions.” Likewise, Article 116A reads “…all persons employed in the judicial service and all magistrates shall be independent in the exercise of their judicial functions.” Institutional independence of Judiciary comes by way of necessary implication from Article 22 as well as from the spirit of Part VI of the Constitution coupled with judicial pronouncements. In Eight Amendment Case independence of Judiciary has been accepted as one of the basic structures of the Constitution.

Power of appointment of a judge in the Supreme Court is given to the President under Articles 95 and 98 of the Constitution. But such power of the president ultimately falls in the hands of the Prime Minister during the political government as the President is required, under Article 48(3), to act in accordance with the advice of the Prime Minister in appointing judges, except Chief Justice, under Articles 95 and 98 of the Constitution. Although, conventionally chief Justice is consulted before appointing Supreme Court Judges, such requirement is neither mandatory, nor was often followed in recent decade.

We know that in case of appointment of judges in the higher judiciary, the requirements envisaged in Article 95(2) of our Constitution have to be fulfilled. Article 95(2) of our Constitution stipulates that “A person shall not be qualified for appointment as a judge unless he is a citizen of Bangladesh and (a) has, for not less than ten years , been an advocate of the supreme court; or, (b) has, for not less than ten years, held judicial office in the territory of Bangladesh; or (c) has such other qualifications as may be prescribed by law for appointment as a judge of the supreme court.”

Moreover, Article 98 of the Constitution states that if the President is satisfied that the number of the judges of a Division of the Supreme Court should be increased for the time being, the president may appoint one or more duly qualified persons to be additional judges of that Division for such a period not exceeding two years as he may specify.

Recently, the Government has appointed a few additional judges in the High Court Division. It is alleged that out of these additional judges, some are not competent to become the additional judges under Article 98 of Our Constitution. Though we know that there are no specific requirements prescribed for the appointment of additional judges in the higher judiciary, nevertheless the provisions mentioned in Article 95(2) of our Constitution is applied in case of appointment of additional judges. To become a judge in the higher judiciary, one has to practice for at least ten years as an advocate of the Supreme Court; but it’s a matter of regret that the recent recruitment has not done justice to this criteria for  every recruitment cases.

Our constitution was adopted on 4th November, 1972 & came into force on 16th December, 1972 and there are almost two thousand legislations in our country since then, but there is no specific law relating to the appointment of judges and their qualification.

For appointment of judges in the Supreme Court clear guidelines should be made. Appropriate legislation should be enacted, as contemplated in Art.95(2)(c) of the Constitution, to set out the selection criteria. The Appointment Commission must have the power to formulate the other qualifications of judges with sufficient clarity for making a sound decision to appoint an appropriate person.

The Chief Justice will make a request to the Commission with requisite numbers of judges to be appointed. An advertisement should be made by the Appointment Commission inviting application from persons qualified under provision of Art.95(2)(a)(b) of the Constitution who are required to supply information set out by the Commission and will be interviewed by the entire quorum of Commission. The Commission will prepare a short list and in turn will forward the listed candidate’s information along with their observation to the Chief Justice who will consider the short listed candidates’ aptness with a ‘Collegiums’ of judges consisting of all the judges of the Appellate Division and two senior most High Court Judges. Recommendation of the ‘Collegiums’ will be placed before the President for formal appointment. The President may send the recommendation, partly or wholly, back to the ‘Collegiums’ for reconsideration. If the ‘Collegiums’ find no plausible reason for reconsideration, they will forward their final recommendation to the President, who must appoint them as a matter of formality.

Integrity and dignity of a judge are the most important sanctity in earning respect from the people. If appointment of a judge shrouded in contention, however excellence s/he may have in deliberation, s/he can never earn the admiration that s/he deserves to have as a judge. Although Mazdar Hossain judgement sets the stepping stone in aligning the constitutional position regarding, inter alia, appointment of judges of the subordinate judiciary through a judicial service commission, unfortunately, the very process of appointment of the judges of the Supreme Court remains in the hands of the Executive and thereby political manipulation in appointing Supreme Court judge’s can seriously damage the image and prestige of judiciary leaving the separation of judiciary a mythical phenomena.

Most of the time, it is noticed that ‘appointment of judges’ receives political overtones. Because of this reason, the most talented lawyers and judges in the sub-ordinate court hardly get the chance to become judge in the Supreme Court of Bangladesh. In this backdrop, the following points are to be seriously taken into consideration by the policy makers:

-To enact a separate law relating to the appointment of judges and their qualification as indicated in Article 95 (2) (c). 

-To ensure the selection of at least 50% judges from the sub-ordinate court in case of appointment of judges in the higher judiciary.

-To amend the provisions mentioned in Article 95(2) of our Constitution. The tenure of an advocate of the Supreme Court & a judge held judicial office in the territory of Bangladesh may be increased with an additional focus on the submission record in their practice life and their contribution to the life of law. 

Article 95(2) of our Constitution only provides that ‘to become a judge of the Supreme Court, a person has, for not less than ten years, to be an advocate of the Supreme Court.’ Though there is a long-constitutional practice that the President shall consult with the Chief Justice, but in fact it doesn’t work. It apparently seems that once one becomes an advocate of the higher court, he doesn’t necessarily have to engage in actual practice. After ten years even a non-practicing lawyer may assume the sit of the bench as a judge in the Supreme Court. Precisely for this reason, the provision of Article 95(2) (a) of our Constitution has to be amended slightly by adding a word “practicing” before the word ‘advocate’ (i.e. practicing advocate).

As the practice goes, a judge of the sub-ordinate court becomes competent to become a judge of the Supreme Court whenever he holds the post of District Judge (DJ) or Additional District Judge (ADJ). In reality, it takes approximately fifteen to twenty years to become a DJ or ADJ in the sub-ordinate court. So, it appears that the provision of Article 95(2) (b) of our Constitution should be changed a little by adding a word ‘at least fifteen to eighteen years’ in place of ‘ten years’. The other points in matter of judges’ appointment may be:

-To sketch out a constitutional mechanism for ensuring effective consultation in the event of appointment of justice in the higher judiciary.
-At least forty-five years has to be completed to become a judge of the Supreme Court.
-Hold a good academic record/result in his/her educational level (i.e. from S.S.C. to Masters).

There is no better test of excellence of a state than to examine its administration of justice system. Good judges can make the law sing and can even interpret a bad law for the greater interest of the people. Being the watchdog of people’s right we should take care that the court remains an arbiter of justice and excellence.

Judges, who will be appointed through a transparent and acceptable system, will always be respected, loved, feared and admired. People’s faith on the wisdom of the judges and confidence on the system of their appointment do play pivotal role in establishing an effective and independent Judiciary. Independence of Judiciary paves the way to ensure “justice and fairness” to all. People will always be in doubt about receiving justice and fairness from a judge who was improperly appointed. Independence of Judiciary can only be achieved when the judiciary wins the heart of the people by ensuring fairness in all aspects of its affairs. Independence of judiciary depends on some certain conditions like mode of appointment of the judges, security of their tenure in the office and adequate remuneration and privileges. Satisfactory implementation of these conditions enables the judiciary to perform its due role in the society thus inviting public confidence in it.

“When the judiciary gets flooded with politics, it leaves possibility of miscarriage of justice. It’s a well settled principle that the independence of judiciary is the basic structure of any democratic constitution and if it gets influenced under the grip of politics, there would be an attack on its independency,” said Alok Kumar Yadav, a faculty of International Law at HNB Garhwal Central University, Shrinagar.

Advocate Mohammad Rayhan Uddin
LL.B (Honours), LL.M, MBA.
Advocate, Supreme Court of Bangladesh
& Judges' Court, Chittagong.
Cell No: +88 01914676110


http://www.lawjournalbd.com/2017/08/article-952-of-the-constitution-revisited/

প্রযুক্তিগত বোকামি ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত

  ইন্টারনেট ১৯৬৯ সালে আবিস্কৃত হয়। গত ১৯৯৫ সালে ইন্টারনেট বাণিজ্যিক বা কর্পোরেট পন্য হিসেবে আবির্ভূত হয়ে চলমান রয়েছে। গত ১৯৯০ দশকে টেলিফো...