Wednesday, 23 June 2021

বিদেশে থাকা স্বামীকে কিভাবে তালাক দেবেন?

 স্বামী দীর্ঘদিন বিদেশে আছেন। দেশে থাকা স্ত্রী-সন্তানদের খোঁজ খবর কিংবা ভরণপোষণ দেন না। উল্টো করে স্ত্রীর উপর নানারকম অপবাদ লেপন করছে। এমতাবস্থায় স্ত্রী বিদেশে থাকা ওই স্বামীর সাথে ঘর সংসার করতে চান না, তালাক দিতে চান। হ্যাঁ, স্ত্রী তালাক দিতে পারেন এবং অন্যত্র বিয়েও করতে পারবেন।

বিয়ের কাবিননামা বা নিকাহনামার ১৮ নং কলামে লেখা আছে যে স্বামী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করেছে কি-না? এ প্রশ্নের উত্তরে যদি হ্যাঁ লেখা থাকে তাহলে স্ত্রীর পক্ষে তালাক প্রদানে কোন সমস্যা নেই। সাধারণত নিরানব্বই ভাগ কাবিননামার এ ঘরটিতে হ্যাঁ শব্দটি লেখা থাকে। সেকারণ বিয়ের সময় নিকাহনামার ১৮ নং ঘরটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পূরণ করা উচিত। অনেকে এ বিষয়টি সম্পর্কে জানেনা এবং ঘরটি শূন্য থাকে। বিয়ে পড়ানোর সময় কাজীদের অবশ্যই দু’পক্ষকে এই ১৮ নং কলাম বা ঘরটি সম্পর্কে বিশেষভাবে জানানো উচিত। এই হ্যাঁ শব্দের বলে স্ত্রী তার বিদেশে থাকা স্বামীকে তালাক দিতে পারেন। এ তালাককে তালাক-ই-তৌফিজ বলে।

কাবিননামার এ ক্ষমতা বলে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব পালনে অপারগতার কারণে স্ত্রী নিজ নফসের প্রতি তালাকের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন এ বিষয়ে ৯ ডিএলআর ৪৫৫ পৃষ্টায় একটি কেইস ষ্টাডিও উল্লেখ রয়েছে। এক্ষেত্রে যেহেতু স্ত্রী তালাক দিচ্ছেন তাই তালাক সংক্রান্ত নোটিশ চেয়ারম্যানের কাছে এবং এর কপি স্বামীর কাছে পাঠাতে হবে। এখানে জানিয়ে রাখি যে, তালাক আপনি ঘরে বসেই দিতে পারেন। এর জন্য কাজীর কাছে কিংবা কোর্ট কাচারীতে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই, এমনকি বিয়ের কাবিননামারও কোন দরকার নেই। স্ত্রীর দায়িত্ব তালাক ঘোষণার পর স্বামী বিদেশে যেখানে অবস্থান করছেন সেই ঠিকানায় তালাকের নোটিশ পাঠিয়ে দেয়া। সেইসাথে স্বামীর দেশের ঠিকানাতেও নোটিশের একটি কপি পাঠিয়ে দিন। এমনকি আপনার স্বামীর দেশে থাকা পিতা-মাতা, ভাই বোন কিংবা যিনি অভিভাবক হিসেবে আছেন তালাকের বিষয় অবগত করতে তাকেও একটি নোটিশ পাঠাতে পারেন। আর আপনার স্বামীর এলাকার চেয়ারম্যানকে নোটিশ তো দিতেই হবে। এখানে চেয়ারম্যান বলতে আপনার স্বামীর স্থায়ী ঠিকানা যদি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে হয় তাহলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট, পৌরসভা হলে পৌরসভার মেয়র এবং সিটি কর্পোরেশন হলে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে নোটিশ দিতে হবে। অনেকে তালাক দিয়ে তালাকের কপি চেয়ারম্যান কিংবা যাকে তালাক দেয়া হয় তাকে না পাঠিয়ে তিন মাস পরে পাঠালে তালাক কার্যকর হবে-এমন ভ্রান্ত ধারনা নিজের মনের মধ্যে লালন পালন করে থাকেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা এবং আপনারা এখনও ভুলের মধ্যে রয়েছেন।

এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, তালাকের নোটিশটি কত সময়ের মধ্যে পাঠাতে হবে। আইনে বলা আছে তালাক দেয়ার পর যথাশীঘ্রই সম্ভব তালাকের নোটিশ পাঠাতে হবে। কাজেই তালাক দিয়ে তালাকের নোটিশ নিজের কাছে বা ঘরের মধ্যে রেখে দিলে তালাক হবে না। এখন জানার বিষয় হচ্ছে তালাকের নোটিশ কিভাবে লিখবেন। এর জন্য আইন নির্দিষ্ট কোনো ফরম বা বক্তব্য নির্ধারণ করেনি। নোটিশ লেখা কাজটি আপনি ঘরে বসে নিজেই লিখতে পারেন। আপনি কি কারণে তালাক দিতে চান, কথাগুলো সাদা কাগজে লিখে এটাকে তালাকের নোটিশ হিসেবে পাঠাতে পারেন। পাঠানোর কাজটি আপনি নিজেও করতে পারেন, আবার অন্য কাউকে দিয়েও করাতে পারেন। নোটিশ পাঠানোর কাজটি ডাকযোগে রেজিষ্ট্রি করে এডি সহযোগে পাঠালে ভাল হয়।

চেয়ারম্যান/মেয়র নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ হতে নব্বই দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো তালাক কার্যকর হবে না। কারন নোটিশ প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান/মেয়র দুই পক্ষের মধ্যে আপোষ বা সমঝোতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সালিশী পরিষদ গঠন করে থাকে। এর মধ্যে প্রতি ৩০ দিনে একটি করে মোট তিনটি নোটিশ দেবে তালাকদাতা ও তালাকগ্রহীতাকে। আপোষ মীমাংসা হয়ে গেলে যিনি তালাক দিয়েছেন, তিনি তালাক নোটিশ প্রত্যাহার করলে তালাক আর কার্যকর হবে না। আর মনে রাখবেন নোটিশ পাওয়ার ৯০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই যদি কেউ অন্য কারও সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, তাহলে উক্ত বিয়ে অবৈধ বলে গণ্য হবে। এ বিষয়ে ১৫ ডি.এল.আর পৃষ্ঠা-৯ তে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে। কারণ তালাক সম্পূর্ণ কার্যকরী না হওয়া পর্যন্ত পক্ষগন আইনসম্মতভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই থেকে যায়। এই ৯০ দিন পর্যন্ত স্বামী তার স্ত্রীকে ভরণপোষণও দিতে বাধ্য।

আপনাকে জেনে রাখতে হবে যে, চেয়ারম্যান/মেয়র মহোদয় কর্তৃক কোন নোটিশ পাঠানো কিংবা শালিশী পরিষদ গঠন করুক বা না করুক নোটিশ পাঠানো এবং ৯০ দিন অতিক্রান্ত হলেই তালাক কার্যকর হয়ে যাবে। এরপর আপনার পছন্দমতো কাউকে বিয়ে করে ঘর সংসার করতে পারবেন। আইনে কোথাও বাঁধা নেই।

ধর্মান্তরিত হিন্দুর উত্তরাধিকার এবং বিভ্রান্তি নিরসন

সভ্যতার সূচনালগ্ন হতে সমাজকাঠামোর অন্যতম অনুসঙ্গ ধর্ম। ধর্ম কেবল আমাদের বিশ্বাস নয়,এর শিকড় এবং পরিধি আরো গভীরে।ব্যক্তি,পরিবার ও সমাজ নিয়ন্ত্রনের অন্যতম হাতিয়ার ধর্ম। খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ অব্দে প্রণীত হাম্বুরাবী আইন হতে শুরু করে শতাব্দীর পর শতাব্দীব্যাপী যে শাসন কাঠামো গড়ে উঠেছে প্রত্যেকটি জায়গায় রয়েছে ধর্মের প্রভাব।

ধর্ম এবং ধর্মান্তরের ইতিহাস সুপ্রাচীন। ধর্মান্তরিত ব্যক্তির প্রতি প্রত্যেকটি ধর্ম এবং প্রত্যেক সমাজের অবস্থানই অভিন্ন। ধর্ম এবং ধর্মান্তরের কালানুক্রিমক পর্যায় নয়, আমার আজকের আলোচ্য হিন্দু হতে ধর্মান্তরিত ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকার-

সম্পত্তর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মোকদ্দমা দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা। দেওয়ানি মোকদ্দমাসমূহের  বিচারকার্য পরিচালনার  জন্য  ১৮৮৭ সালে ১১মার্চ প্রণয়ন করা হয় The Civil Courts Act-1887। এ আইনের ৩৭ ধারায় কতিপয়  বিষয়ে রাষ্ট্রীয় আইন নয় বরং হিন্দু এবং মুসলিমদের ধর্মীয় আইনের বিধানকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ৩৭ ধারায় বলা হয়েছে-” কোন মামলা বা কার্যধারায় দেওয়ানি আদালত কতৃক উত্তরাধিকার ও ওয়ারিশী,বিবাহ  বা ব্যক্তিগত ধর্মীয় আচরণ বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত বিষয়ে পক্ষগন হিন্দু হলে হিন্দু আইন এবং মুসলিম হলে মুসলিম আইন প্রযোজ্য  হবে।

হিন্দু এবং মুসলিম উভয় আইন অনুসারে সম্পত্তির উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে অভিন্ন নীতি হলো কেউ যদি ধর্মান্তরিত হয় তবে ঐ ধর্মান্তরিত ব্যক্তি যে ধর্মে ধর্মান্তরিত হবে তার ক্ষেত্রে সেই আইন প্রযোজ্য হবে এবং ঐ ব্যক্তি তার পিতা বা মাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবে। এখন প্রশ্ন হলো উভয় পার্সোনাল ল অনুসারে যদি ধর্মান্তরিত ব্যক্তি উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হয় তবে বিভ্রান্তিটা কোথায়? বিভ্রান্তিটা সৃষ্টি করেছে ১৮৫০ সালে প্রণীত Cast Disabilities Removal Act,1850। মুসলিম ল এর উপর বাজারে যত বই আছে কোন বইতে এটা লিখে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়নি যে ১৮৫০ সালের আইন প্রণয়নের পর পূর্বে ধর্মান্তরিত ব্যক্তি উত্তরাধিকার বঞ্চিত হলেও এখন কোনো মুসলিম যদি অন্যধর্মে ধর্মান্তরিত হয় তবে তার মা বাবার সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হয়না। কিন্ত হিন্দু আইনের ওপর বাজারে যত বই আছে প্রায় প্রত্যেকটা বইয়ের ভাষ্য যে পূর্বে উত্তরাধিকার বঞ্চিত হলেও ১৮৫০ সালের Cast disabilities Removal Act প্রণয়নের পর আর বঞ্চিত হয়না। মাত্র দু একটা বইয়ে হয়তো ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই বিভ্রান্তির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আমি এই লেখায় হিন্দু শাস্ত্রের বিধান, মুসলিম ধর্মের বিধান, ১৮৫০ সালের আইনের প্রয়োগ এবং বর্তমানে এই আইনের প্রয়োগের ক্রমানুযায়ী আলোচনার মাধ্যমে বিভ্রান্তিটা নিরসনে চেষ্টা করব-

হিন্দু আইনে দুটি মতবাদ -দায়ভাগ এবং মিতক্ষরা। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুগন দায়ভাগ মতবাদ অনুসারী। দায়ভাগ মতবাদের অন্যতম উৎস মনুস্মৃতি এবং যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি। এবার দেখা যাক তাদের মতে কারা হিন্দু সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবেন-

মনু বলেছেন-“ক্লীব,জাতিভ্রষ্ট বা  ধর্মান্তরিত, জন্মান্ধ, জন্মবধির, জন্মউন্মাদগ্রস্ত ব্যক্তিগন সম্পত্তির অংশ হতে বঞ্চিত হবে

যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন- “জাতিভ্রষ্ট ব্যক্তি ও তার পুত্র, ক্লীব, উন্মাদগ্রস্ত, অন্ধ ও দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি তার সম্পত্তির অংশ হতে বঞ্চিত হবে।”

সুতরাং, এ থেকে দেখা যাচ্ছে ধর্মান্তরিত ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হওয়া বিষয়ে সব শাস্ত্রকারই একমত। ধর্মান্তর বাদে অন্য যে সকল কারনে হিন্দুআইনে উত্তরাধিকার বঞ্চিত হবার কথা বলা হয়েছে পরবর্তীতে  বিভিন্ন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এ সকল অযোগ্যতা দূর করা হয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে ১৯৫৬ সালে উত্তরাধিকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নারীকে পুরুষের সমান সম্পত্তির অংশীদার ও করেছে। যদিও এই আইন সহ ১৯৪৭ সালের পর ভারতে আনা আইনসমূহ বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়।

মুসলিম আইনে ধর্মান্তরিত ব্যক্তির অবস্থান:

হিন্দু আইনের মতো একজন মুসলিম ও যদি অন্য কোন ধর্মে ধর্মান্তরিত হন তাহলে তিনি যাদের সম্পত্তিতে ওয়ারিশ হতেন  সেখান হতে বঞ্চিত হন। মুসলিমদের কিছু বিষয়ে ধর্মীয় বিধানকে সুরক্ষা দেবার জন্য ১৯৩৭ সালে The Muslim Personal Shariat Application Act, 1937 প্রণীত হয়। এ আইনে যে ১০ টি ক্ষেত্রে শরীয়াহ আইন সংরক্ষণ করে তার মধ্যে অন্যতম একটি বিষয় হলো ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার।

সহীহ বুখারী শরীফে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিতকরণ বিষয়ে বলা হয়েছে- একজন মুসলমান কোন অমুসলিম এর সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হবেনা এবং একজন মুসলিমের সম্পত্তিতে কোন অমুসলিম ও উত্তরাধিকারী হবেনা। ধর্মান্তরিত হলে ঐ ব্যক্তি মুসলিম আত্মীয়র সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হবে। তবে মৃত্যুর পূর্বে আবার মুসলমান হলে সে উত্তরাধিকারী হতে পারবে।

Cast Disabilities Removal Act -1850  এবং এর ফলাফল:

১৮৫০ সালের এই আইনটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনও বলা হয়। এই আইনটি কেবল হিন্দু উত্তরাধিকারের  প্রতিষ্ঠিত নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে তা নয়, এটি মুসলিম উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নীতিতেও মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। আইনে Caste শব্দটি থাকলেও ভাবার সুযোগ নেই যে এটা শুধু হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন বর্ণপ্রথা আছে তা হতে উদ্ভূত সমস্যা নিরসনকল্পে করা হয়েছে, বরং এ আইনে ধর্মান্তরিত এবং বর্ণচ্যুত উভয় ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে। ১৮৫০ সালের এ আইনটি মূলত মৌলিক বা নতুন আইন নয়, ১৮৩২ সালের যে Bengal Presidency Regulations প্রণীত হয় ১৮৫০ সালের আইনটি এটির বর্ধিত সংস্করণ মাত্র। এ আইনে বলা হয় হিন্দু বা মুসলিম কোন ধর্মান্তরিত ব্যক্তি তার ধর্ম এবং প্রথা অনুসারে যে সকল অধিকার হতে বঞ্চিত হতো এ আইন কার্যকরের পর আর বঞ্চিত হবেনা।পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসকগণ এ আইনটি পুরো ভারত বর্ষে  প্রয়োগের চিন্তা করে এবং একইসাথে ভারতের হিন্দুদেরমধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন caste বা Sub- caste হতে কোন ব্যক্তি চ্যুত হবার ফলে যে অধিকারসমূহ হারাতো তাদের অধিকারসমূহ  সুরক্ষা দেবার উদ্যোগ গ্রহন করে।

Cast Disabilities Removal Act -1850 আইনে ১ টি প্রস্তাবনা এবং মাত্র ১ টি ধারা আছে।যেটা পড়লে আপনি পুরোপুরি নিশ্চিৎ হয়ে যাবেন এই আইনটি  কেবল মাত্র হিন্দুদের বর্ণচ্যুতি দূর করার জন্য নয় বরং ধর্ম এবং বর্ণ উভয় চ্যুতির ফলে বঞ্চিতদের অধিকার রক্ষায় করা হয়েছে। এ আইনে change of Religion শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে,কোন নির্দিষ্ট Religion নয়। ১৮৩২ সালের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি  রেগুলেশন এ কেবল হিন্দু ও মুসলিম দের ধর্ম পরিবর্তন বিষয় বলা হলেও এ আইনে Religion শব্দ ব্যবহার করে সকল ধর্ম হতে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। এই আইন প্রয়োগের ফলে হিন্দু,মুসলিম,বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন,শিখ প্রত্যেকেই ধর্মান্তরিত হলেও তার মা- বাবার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হবার অধিকার লাভ করেছিল।

১৮৫০ সালের আইনের বর্তমান প্রয়োগ:

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারী হয়, এই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আমাদের প্রথম অন্তবর্তীকালীন সংবিধান ও। এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন হতে শুরু করে পাকিস্তান ভূখন্ডে যতগুলো আইন প্রচলিত ছিল তা ২৬ শে মার্চ হতে Retrospective Effect দিয়ে বৈধতা দেওয়া হয়। ফলে ১৮৫০ সালের আইন ও বাংলাদেশে কার্যকর হয়।কিন্ত এই কার্যকারিতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বেশি দিন। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার বাংলাদেশ স্বাধীনের পূর্বের প্রচলিত আইনসমূহ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৭৩ সালে Bangladesh Laws Revision And Declaration Act,1973  প্রণীত হয়। এ আইনে ২ টি schedule বা তফশীল আছে।প্রথম schedule এ বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রচলিত কোন কোন আইনগুলো বাতিল করা হলো তার তালিকা এবং দ্বিতীয় schedule এ কোন কোন আইনগুলো গ্রহন করা হলো এবং কোন সংশোধনী থাকলে তা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই আইনের প্রথম শিডিউলের যে বাতিলকৃত আইনসমূহের তালিকা দেওয়া হয়েছে তার ৮ নাম্বার ক্রমে The Cast disabilities Removal Act-1850 সালের আইনটি রয়েছে। এই আইনটি যে কেবল বাংলাদেশে  বাতিল তা নয় ভারতেও এই আইনটি ২০১৭ সালে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ সরকার সুচিন্তিতভাবেই ১৯৭৩ এ আইনটিকে বৈধতা দেয়নি। বৈধতা দিলে কেবল ধর্মান্তরিত হিন্দু ব্যক্তি যে তার পিতা মাতার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হতো তা নয়, একজন মুসলিম ও যদি অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হতো তারপরও তার মা বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতো যা কোরআন এবং হাদিসের বিধান বিরোধী হতো।

সুতরাং,১৯৭৩ সালের Bangladesh Laws Revision and declaration আইনের পর হতে ১৮৫০সালের  Cast Removal  and disabilities Act এর  কোন প্রয়োগ  নেই, ফলে পূর্বের যে পার্সোনাল আইন তা ই বহাল থাকছে।হিন্দু বা মুসলিম যে হোক ধর্মান্তরিত হলে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছে। ১৮৫০ সালের যে আইন ১৯৭৩ এ বাতিল করে দিয়েছে বাতিলের ৪৮ বছর পরও সেই আইনের রেফারেন্স দিয়ে হিন্দু আইনের ওপর বাজারে প্রচলিত সিংহভাগ বই ই আইন শিক্ষার্থীদের মিসলিড বা বিভ্রান্ত করছে যা দু:খজনক। আইনকে সম্যকভাবে সর্বশেষ সংশোধনীসহ পাঠকদের জানানোর দায়বদ্ধতা লেখকের রয়েছে।

Tuesday, 15 June 2021

জমি-জমার জাল দলিল সনাক্তের উপায় ও জাল দলিল বাতিলের নিয়ম

 জমি কেনা-বেচার ক্ষেত্রে সাবধান না হলে পরবর্তীতে দীর্ঘদিন নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। এমন বহু মানুষ রয়েছেন, জমি কেনা-বেচার ক্ষেত্রে আসল দলিল চিনতে না পারায় কোর্ট-কাচারী আর ভূমি অফিসে ঘুরতে ঘুরতে পেরেশান হয়ে গেছে। এজন্য দলিল চেনা খুবই জরুরি।

২০০৫ সালের ১লা জুলাইয়ের আগে রেজিস্ট্রিকৃত জমি নিয়ে জাল দলিলের বিরোধ বেশী দেখা যায়। বিশেষ করে কাউকে জমির মালিক সাজিয়ে জমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে অন্য কারও নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়। তবে এর সাথে বরাবরই অফিসের কিছু অসৎ কর্মচারী ও একশ্রেনীর অসাধু দলিল লেখক জড়িত থাকে।

আবার অনেক সময় এজমালি সম্পত্তি ভাইয়েরা বোনদের না জানিয়ে বাটোয়ারা দলিল নিজেদের নামে করিয়ে নেয়। যেসব ক্ষেত্রে আদালত থেকে বণ্টননামা সম্পন্ন করা হয় না, সে ক্ষেত্রে দলিল জালের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

অনেক সময় অপির্ত সম্পত্তি বা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি জীবিত দেখিয়ে জাল করা হয়। অনেক সময় মালিক বিদেশে থাকলে তার নিকটাত্মীয়গণ জাল দলিল তৈরী করে দেখায় যে, বিদেশ যাওয়ার আগেই জমিটি তার কাছে বিক্রি করে গেছে।

অনেক সময় ঘষামাজা করে এবং ওভাররাইটিং বা কাটাছেঁড়া করেও দলিল জাল করতে পারে। আবার মূল তারিখ ঠিক রেখে দলিলের বিষয়বস্তু জাল করতে পারে।

জমির জাল দলিল সনাক্তের উপায়সমূহ নিম্নরূপ-

ভলিউমের তথ্য: রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষণ করা দলিলের সঙ্গে আপনার সন্দেহকৃত দলিলের সাল মিলিয়ে দেখুন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর দলিলটির যাবতীয় তথ্য দিয়ে দরখাস্ত করতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের প্রকৃতি অনুযায়ী চারটি রেজিস্ট্রার বা ভলিউমে সংরক্ষিত থাকে।

তবে মনে রাখুন জমি ক্রয়ের সময় বিক্রেতার কাছ থেকে সব দলিল, বিশেষ করে বায়া দলিল অর্থাৎ পীঠ দলিল চেয়ে নিতে হবে। এরপর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সব দলিলের ক্রমিক নম্বর, দলিল নম্বর মিলিয়ে নিন।

স্বাক্ষর যাচাই: কুচক্রী মহলের যোগসাজশে অনেকে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে জমি বিক্রেতা বা গ্রহীতার ছদ্মবেশ ধারণ করে। এক্ষেত্রে হস্তরেখা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করিয়ে নেয়া যেতে পারে। এছাড়া ভূমি অফিস থেকে বিভিন্ন সিল পরীক্ষা করেও জালিয়াতি নির্ণয় করা যায়।

সিল ও তারিখ যাচাই: খেয়াল রাখবেন পুরাতন দলিলে চিহ্নিত কিছু পুরাতন সিল ব্যবহার হয়ে থাকে। পুরাতন দলিলে সিল যদি নতুন হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে, দলিলটি জাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সঙ্গে তারিখটিও ভালোভাবে যাচাই করে নিন। দলিল রেজিস্ট্রির তারিখ যদি কোনো সরকারি বন্ধের দিন হয়, তাহলে সন্দেহের অবকাশ আরও প্রকট হয়ো স্বাভাবিক।

এক জমির একাধিক মালিক: একই জমি যদি একাধিক মালিকের নামে হয়ে থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে দলিলটি জাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মূল মালিক কে, তা নির্ণয় করতে চেষ্টা করুন।

নামজারি বা মিউটেশন: সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে জমির মিউটেশন বা নামজারি সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন। নামজারিতে ধারাবাহিকতা ঠিক আছে কি-না, সেটা ভালভাবে বুঝে নিন। যদি দেখা যায়, সিএস জরিপের সঙ্গে বিক্রেতার খতিয়ানের কোনো গরমিল আছে, তাহলে বুঝতে হবে, কোনো জটিলতা আছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, জরিপ খতিয়ানে জমির পরিমাণ পরবর্তী সময়ে যতবার বিক্রি হয়েছে, তার সঙ্গে জমির পরিমাণ মিল আছে কি। দাগ নম্বর, ঠিকানা এসব ঠিক আছে কি-না, মিলিয়ে নিন।

আমমোক্তারনামা বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: সম্প্রতি কোনো আমমোক্তারনামা দলিল থাকলে তাতে উভয় পক্ষের ছবি ব্যবহার হয়েছে কি না কিংবা উক্ত আমমোক্তারনামা রেজিষ্ট্রিকৃত কি-না সঠিকতা যাচাই করে নিন।

দান করা জমির ক্ষেত্রে: জমিটি যদি দান করা হয় তাহলে দেখতে হবে জমির দলিল সম্পাদনের তারিখ থেকে কতদিন পর দানগ্রহীতা জমিতে দখলে গেছে। দান দলিলটি রেজিস্ট্রি করা কি না এবং দলিলদাতার সঙ্গে গ্রহীতার সম্পর্ক কী, কিংবা সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি দান গ্রহীতা হতে পারবেন কি-না এগুলো যাচাই করে নিন।

লেখক যাচাই: দলিলটি সম্পর্কে সন্দেহ হলে বিক্রীত দলিলের দলিল লেখকের নাম ঠিকানা জেনে সরেজমিন কথা বলুন। তাতে আপনার সন্দেহ দূর হয়ে যাবে।

স্ট্যাম্প যাচাই: দলিল সম্পাদনের সময় ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের পেছনে কোন ভেন্ডার থেকে স্ট্যাম্প কেনা হয়েছে এবং কার নামে কেনা হয়েছে খেয়াল রাখুন। প্রতিটি স্ট্যাম্পের পেছনে একটি ক্রমিক নম্বর উল্লেখ থাকে। এ নম্বরটি ঠিক আছে কি না, প্রয়োজনে স্ট্যাম্প বিক্রেতার সঙ্গে দেখা করে যাচাই করে নিন।

জাল দলিল বাতিল করবেন কিভাবে
জাল দলিল সম্পর্কে অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা বাতিলের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে হবে। এ ছাড়া তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ৯১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাল দলিল তৈরি সম্পর্কে জানার তিন বছরের মধ্যে এ মামলা করা যাবে।

অবশ্য এধরনের মামলা তামাদি হয়ে গেলে সুনিদির্ষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুসারে ‘ডিক্লেরেশন মামলা’ বা ‘ঘোষণামূলক মোকদ্দমা’ দায়ের করে ভিন্নভাবে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ আছে।

আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯নং ধারা হতে ৪১নং ধারা পর্যন্ত আদালত কর্তৃক দলিলাদি বাতিলীকরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে। দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করা হলে বিচারক বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করবেন এবং বিস্তারিত শুনে সাক্ষীর মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি করবেন। এ ক্ষেত্রে জাল দলিলটি আদালতে উপস্থাপন করে ভুয়া প্রমাণ করা যায়।

এছাড়া সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪০ ধারা অনুসারে দলিল আংশিক বাতিলের মামলাও করা যাবে। দলিল বাতিলের সঙ্গে সম্পত্তির দখল পাওয়ার মামলাও করা যায়। আদালত দলিল বাতিলের আদেশ/রায় দিলে ডিক্রির একটি কপি সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পাঠাতে হবে।

এরপর সেই কপির আলোকে রেজিস্ট্রি অফিস দলিল বাতিলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বালাম বইতে লিপিবদ্ধ করে রাখবে। দলিল বাতিলের মামলায় কোর্ট ফি আইনের দ্বিতীয় তফসিলের ১৭(৩) অনুচ্ছেদে বর্ণিত কোর্ট ফি দিতে হবে। যার স্বার্থ আছে, তিনিই কেবল দলিল বাতিলের মামলা করতে পারবেন।

৩৯ ডিএলআর এ ‘সুফিয়া খানম চৌধুরী বনাম ফাইজুন্নেছা চৌধুরী মামলা’র সিদ্ধান্ত অনুসারে, কোনো দলিল রদের প্রার্থনা ছাড়াই শুধু ওই দলিল বাতিল মর্মে ঘোষণার মামলা চলতে পারে।

তবে যদি দেখা যায় যে, সুনিদির্ষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারা অনুসারে ওই দলিল রদের ঘোষণা দরকার কিন্তু এ ধরনের কোনো প্রাথর্না করা হয়নি, সে ক্ষেত্রে বাদীকে অতিরিক্ত কোর্ট ফি প্রদান করতে বলা হবে।

আবার জাল দলিল তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে আপনি ফৌজদারি আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৪৬৩-৪৭৩ ধারায় মামলা করতে পারেন। বিচারক চাইলে সেই মামলা সরাসরি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিতে পারেন।

তাছাড়া মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠাতে পারেন। তদন্তে দলিল ভুয়া প্রমাণিত হলে আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দিতে পারবেন আদালত।


প্রতারণামূলক ভাবে একই জমি একাধিক হস্তান্তরে আইনি প্রতিকার

 জমি বা স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্যা সমাজে খুবই সাধারণ একটা বিষয়। জমি বা স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে কিন্তু এর জন্য কোন ভোগান্তিতে পড়েনি এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। প্রতিনিয়ত জমি বিক্রয় বা ক্রয় করতে গেলে আমরা বিভিন্ন ধরণের প্রতারণা বা ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকি। জমি ক্রয় করে অনেক সময় দেখা যায় যে বিক্রেতা পূর্বেও ঐ একই জমি একাধিক জনের নিকট প্রতারণামূলক ভাবে  বিক্রয় করেছে। নিজের সব জমানো টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করে এ ধরণের প্রতারনার শিকার হলে মানুষ সাধারণত অসহায় হয়ে পড়ে। সঠিক আইনী ব্যবস্থা গ্ৰহনের মাধ্যম না জানা থাকায় আইনি প্রতিকার করতে অক্ষম হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরণের প্রতারনার শিকার হলে তার আইনী বিধান কি হতে পারে সেটাই তুলে ধরেছেন ল’ইয়ারস ক্লাব ডট কমে বিজিডিসিএল এর সহকারী ব্যবস্থাপক (আইন) মোঃ কামাল হোসেন।

দেওয়ানী প্রতিকার:-
একই জমি একাধিক জনের নিকট হস্তান্তর করা হলে উক্ত জমিতে কে অগ্ৰাধিকার বা মালিকানা লাভ করবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন-১৮৮২ এর ধারা ৪৮ এ
উক্ত ধারা অনুযায়ী, হস্তান্তর দ্বারা সৃষ্ট অধিকারের অগ্রাধিকার:-

যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়
হস্তান্তর  দ্বারা একই স্থাবর সম্পত্তির উপর একাধিক অধিকার সৃষ্টির ইচ্ছা পোষণ করে এবং এরূপ অধিকারগুলি যদি এক সঙ্গে অবস্থান বা পরিপূর্ণ ভাবে বলবৎ করতে না পারে সেক্ষেত্রে পূর্ববর্তী হস্তান্তর গ্রহণকারীগণের উপর বাধ্যতামূলক কোন বিশেষ চুক্তির বা বাধার অবর্তমানে পরে সৃষ্ট প্রত্যেক অধিকার পূর্বে সৃষ্ট অধিকারগুলির সাপেক্ষে হতে হবে।

অগ্ৰাধিকার নীতি :-
অগ্রাধিকার নীতির অর্থ হল, সময়ের দিক হতে যিনি প্রথম হবেন, আইনের দিক হতে তিনি অধিকার লাভ করবেন। কোন সম্পত্তির আইনসঙ্গত মালিক যদি একই সম্পত্তি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে  হস্তান্তর করে তাহলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তা নিরসন করার জন্য এই ধারায় বিধান করা হয়েছে। আমাদের দেশে একই সম্পত্তি বার বার হস্তান্তর করতে দেখা যায়। এই
অবস্থায় যিনি প্রথম হস্তান্তর গ্রহণ করবেন তিনি সম্পত্তিটি পাবেন। তবে হস্তান্তরসমূহ এমন প্রকৃতির হতে হবে যাতে ঐ হস্তান্তরগুলি একত্রে কার্যকর হতে পারে। প্রথম হস্তান্তর আইনানুগ বৈধ না হলে ৪৮ ধারা অনুসারে পরবর্তী হস্তান্তবের উপর তা প্রাধান্য পাবে না।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৪৮ ধারা  অগ্রাধিকার নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। এই নীতির অর্থ হল, সময়ে যিনি অগ্রবর্তী আইনে তিনি উৎকৃষ্ট, অর্থাৎ সময়ের দিক হতে যিনি প্রথম হবেন আইনের দিক থেকে তিনি সুবিধা পাবেন I

এই নীতির উপর ভিত্তি করে ৪৮ ধারায় বলা হয়েছে যে, যখন কোন ব্যক্তি ভিন্ন
ভিন্ন সময়ে হস্তান্তর দ্বারা একই স্থাবর সম্পত্তির উপর একাধিক অধিকার সৃষ্ট করে
এবং ঐরূপে সৃষ্ট অধিকারগুলি যদি একত্র একই সময় কার্যকর, পূর্ণভাবে কার্যকর হতে
না পারে তাহলে পূর্বে সৃষ্ট অধিকার পরের সৃষ্ট অধিকারগুলির উপর প্রাধান্য পাবে।
তবে পূর্ববর্তী হস্তান্তর গ্রহীতার উপর বাধ্যকর কোন বিশেষ চুক্তি থাকলে এই ধারা
অনুসারে প্রথম হস্তান্তরগ্রহীতা পরবর্তী হস্তান্তর গ্রহীতাদের উপর প্রাধান্য পাবে না।
যিনি সম্পত্তি আগে কিনবেন তিনি সম্পত্তি লাভ করবেন। কোন বিক্রেতা যাতে
প্রথম ক্রেতাকে প্রতারিত করে সম্পত্তি পুনরায় বিক্রয় না করতে পারে তার জন্য ৪৮
ধারায় বিধান করা হয়েছে। কোন সম্পত্তির মালিক সম্পত্তি একবার বিক্রয় করলে ঐ সম্পত্তিতে বিক্রেতার বিক্রয়যোগ্য আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। বিক্রতা একবার বিক্রয়ের মাধ্যমে সকল অধিকার হারায়। যার যাতে কিছু নেই সে তা বিক্রয় করলে ক্রেতা কিছুই পাবে না, কারণ আইনে প্রবাদ রয়েছে, যার যে স্বত্ব আছে তার চেয়ে উত্তম স্বত্ব সে অন্যকে দিতে পারে না ।

উদাহরণ-
করিম তার দৌলতপুর মৌজার ১২৬৭নং দাগের জমি বিগত ১৬-০৬-২০১৮ ইং তারিখে আরিফের নিকট বিক্রয় করলে। ১৮-০৯-২০১৯ ইং তারিখে তা
আবার রাজ্জাকের নিকট বিক্রয় করলো। ৪৮ ধারা অনুসারে ১৬-০৬-
২০১৮ ইং তারিখে আরিফের নিকট হস্তান্তর ১৮-০৯-২০১৯ ইং তারিখে রাজ্জাকের
নিকট হস্তান্তরের উপর প্রাধান্য পাবে, অর্থাৎ আরিফের নিকট বিক্রয় কার্যকর হবে।

অগ্রাধিকার নীতি প্রয়োগের পূর্বশর্তসমূহঃ
অগ্রাধিকার নীতি প্রয়োগের জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তসমূহ হলো:-

১। একই সম্পত্তির উপর হস্তান্তরের মাধ্যমে অধিকারসমূহ সৃষ্টি করতে হবে।২।  হস্তান্তরগুলি ভিন্ন ভিন্ন তারিখে হতে হবে। একই সঙ্গে একই দলিলে হলে চলবে না।
৩। হস্তান্তর আইনগত ভাবে বৈধ ও পরিপূর্ণ হতে হবে।
৪।হস্তান্তরগুলি পরস্পরের সাথে সংঘাতময় হতে হবে।
৫। বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন করা না হলে তা পরবর্তী রেজিস্ট্রেশন দলিলের
উপর প্রাধান্য পাবে না।৬। বিপরীত মর্মে কোন চুক্তি থাকলে অগ্রাধিকারের বিধান কার্যকর নয়।
৭। হস্তান্তরিত সম্পত্তিটি স্থাবর সম্পত্তি হবে।

উপরিউক্ত শর্তসমূহ পূরণ হলেই কেবল অগ্ৰাধিকারের নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

ফৌজদারি আইনে প্রতিকার:-
আপনি যদি জমি কিনে এই ধরনের প্রতারণার শিকার হন তাহলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করতে পারেন।


বেদখল জমির দখল পুনরুদ্ধারে আইনি প্রতিকার

 প্রভাবশালী কোন ব্যক্তি বা সংগঠন বা অন্য কারো বিরুদ্ধে মানুষের সম্পদ বা জমি দখলের অভিযোগ প্রায়ই আমরা দেখে থাকি। জমি বেদখল হলে একজন মানুষ কি ধরণের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন তা অনেকেই জানেন না যার কারণে সঠিক প্রতিকার পান না। এই প্রেক্ষিতে আসুন জেনে নিই কারো সম্পত্তি বেদখল হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিকার কী। বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন মোঃ কামাল হোসেন

জমি বেদখল কি
জমি বেদখল বলতে বোঝায় প্রকৃত মালিককে তার মালিকানা থেকে জোর করে উচ্ছেদ করে অবৈধভাবে সেখানে দখলদারের স্বত্তা প্রতিষ্ঠিত করা৷

প্রতিকার
ভূমি বেদখল হলে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য যে সমস্ত প্রতিকার আছে তা হলো: ক) সালিশের মাধ্যমে এবং খ) আদালতে মামলা করার মাধ্যমে।

সালিশের মাধ্যমে
কোন ব্যক্তির জমি বেদখল হলে তার গ্রামের স্থানীয় লোকদের নেতৃত্বে সালিশের মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তি তার জমি ফেরত পেতে পারেন৷ সালিশে মীমাংসার মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে সমাধান করা হয়ে থাকে৷

আদালতে মামলা দায়ের

১. ফৌজদারী আদালতে মামলা: কোন ব্যক্তি তার সম্পত্তি হতে বেদখল হওয়ার ২ মাসের মধ্যে তিনি উক্ত ব্যক্তিকে বেদখল করার চেষ্টা হতে বিরত করার জন্য বা সম্পত্তিতে ঐ ব্যক্তির প্রবেশ বারিত করে আদেশ প্রদানের জন্য ১ম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট এর আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারার বিধান অনুসারে মামলা করতে পারবেন ৷

ধারা ১৪৫: জমি, ইত্যাদি সম্পর্কিত বিরোধের ফলে শান্তি ভঙ্গের আশংকা থাকলে পদ্ধতি (Procedure where dispute concerning and, etc, is likely to cause breach of peace):

(১) যখন কোন মেট্রৌপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট, বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ রিপোর্ট বা অন্য কোনভাবে সংবাদ পাইয়া এই মর্মে সন্তষ্ট হন যে, তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে জমি বা পানি বা উহার সীমানা সম্পর্কে এমন একটি বিরোধ রহিয়াছে, যাহা শান্তিভঙ্গ ঘটাইতে পারে, তখন তিনি তাহার এইরূপ সন্তষ্ট হইবার কারণ উল্লেখ করিয়া তাহার দ্বারা নিধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে সশরীরে বা কৌসুলীর মাধ্যমে তাহার আদালতে হাজির হইবার এবং বিরোধের বিষয়বস্তুতে প্রকৃত দখল সম্পর্কে তাহাদের নিজ নিজ দাবী সম্পর্কে বিবৃতি পেশ করিবার নির্দেশ দিয়া একটি লিখিত আদেশ দিবেন।

(২) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “জমি বা পানি” বলিতে দালান, বাজার, মত্‍স্য খামার, ফসল ভূমির আন্যান্য উত্‍পাদিত দ্রব্য বা সম্পত্তির খাজনা বা মুনাফা ও বুঝায়।

(৩) ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশক্রমে এইরুপ ব্যক্তি বা ব্যক্তিগনের উপর আদেশের একটি কপি সমন জারীর জন্য এই আইনে বর্ণিত পদ্ধতিতে জারী করিতে হইবে এবং অন্তত:পক্ষে একটি কপি নকল সুবিধাজনক স্থানে বা বিরোধের বিষয়বস্তর নিকটে লটকাইয়া প্রকাশ করিতে হইবে।

(৪) দখল সম্পর্কে অনুসন্ধান: অত:পর ম্যাজিস্ট্রেট বিরোধের বিষয়বস্তুতে উক্তপক্ষসমূহের কাহার ও দখলের অধিকার গুণাগুণের বা দাবী প্রসঙ্গে না যাইয়া, পেশকৃত বিবৃতিসমূহ পাঠ করিবেন, পক্ষসমূহের বক্তব্য শ্রবণ করিবেন, তাহারা নিজ নিজ তরফে যে সাক্ষ্য হাজির করেন তাহা গ্রহণ করিবেন, এইরুপ সাক্ষ্যে ফলাফল বিবেচনা করিবেন, তিনি প্রয়োজন মনে করিলে অধিকতর সাক্ষ্য (যদি থাকে) গ্রহণ করিবেন এবং সম্ভব হইলে আদেশের তারিখে কোন পক্ষ উক্ত বিষয়বস্তর দখলে ছিলেন কিনা এবং কোন পক্ষ দখলে ছিলেন তাহা স্থির করিবেন:-

তবে শর্ত থাকে যে, ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত আদেশের তারিখের অব্যাহিত পূববর্তী দুই মাসের মধ্যে কোন পক্ষকে বলপূবর্ক ও অন্যায়ভাবে বেদখল করা হইয়াছে, তাহা হইলে তিনি এইরুপ দখলচ্যুত পক্ষকে উক্ত তারিখে দখলকার ছিলেন বলিয়া বিবেচনা করিতে পারিবেন:

আর ও শর্ত থাকে যে, ম্যাজিস্ট্রেট যদি ঘটনাটিকে জরুরী বলিয়া মনে করেন তাহা হইলে এই ধারার অধীন সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে যে কোন সময় বিরোধের বিষয়বস্ত ক্রোক করিতে পারিবেন।

(৫) এই ধারায় যাহাই থাকুক না কেন উক্তরুপে হাজির হইবার নিদের্শপ্রাপ্ত কোন পক্ষ বা অন্য কোন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কারন দেখাইতে পারিবেন যে,পূবোর্ক্ত কোন বিরোধের অস্তিত্ব বর্তমানে নাই বা ছিল না; এবং এইরুপ ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট তাহার উক্ত আদেশ বাতিল করিবেন এবং পরবর্তী সমস্ত প্রক্রিয়া স্থগিত হইয়া যাইবে, তবে এইরুপ বাতিল সাপেক্ষে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক (১) উপধারায় অধীন প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে।

(৬) আইনসংগতভাবে উচ্ছেদ না হওয়া পযর্ন্ত দখলে থাকা পক্ষ দখল বহাল রাখিবে: ম্যাজিস্ট্রেট যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, পক্ষ সমূহের মধ্যে একপক্ষ বিরোধীয় বিষয়বস্তর দখলে ছিলেন বা (৪) উপ-ধারার প্রথম অনুশর্তের অধীন তাহাকে উক্ত বিসয়বস্তুতে দখলকার বলিয়া গন্য করা উচিত, তাহা হইলে যথাযথ আইনগত পদ্ধতির দ্বারা উচ্ছেদ না হওয়া পযর্ন্ত তিনি এই পক্ষ দখলের অধিকারী মর্মে ঘোষণা করিয়া এবং এইরুপ উচ্ছেদ না হওয়া পযর্ন্ত উক্ত দখলের প্রতি সকল ব্যাঘাত ঘটানো নিষিদ্ধ করিয়া একটি আদেশ দিবেন, এবং তিনি যখন (৪) উপ-ধারায় অনুশত অনুসারে অগ্রসর হন, তখন তিনি বলপূবর্ক বা অন্যায়ভাবে বেদখল হওয়া পক্ষকে দখলে পুনবর্হাল করিতে পারিবেন।

(৭) এইরুপ কোন প্রসিডিংস এর কোন পক্ষ যখন মারা যায় তখন ম্যাজিস্ট্রেট মৃত পক্ষের বৈধ প্রতিনিধিকে প্রসিডিংস এর পক্ষ করাইতে পারিবেন এবং অত:পর তিনি অনুসস্ধান চালাইয়া যাইবেন এবং এইরুপ প্রসিডিংস এর উদ্দেশ্য কে মৃত পক্ষের বৈধ প্রতিনিধি তত্‍সম্পর্কে যদি এইরুপ প্রশ্ন উথাপিত হয় তাহা হইলে মৃতপক্ষের প্রতিনিধি বলিয়া দাবীকারী সকল ব্যক্তিকে পক্ষ করিতে হইবে।

(৮) ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে, এই ধারার অধীন তাহার বিবেচনাধীন কোন প্রসিডিং- এর বিষয়বস্ত কোন সম্পত্তির ফসল বা অন্য কোন উত্‍পন্ন দ্রব্য দ্রুত প্রাকিতিকভাবে নষ্ট হইতে পারে, তাহা হইলে তিনি উক্ত সম্পত্তি যথাযথ হেফাজত বা বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারিবেন, এবং অনুসস্ধান সমাপ্ত হইবার পর উক্ত সম্পত্তি বা উহার বিক্রয়লব্ধ অথ বিলি বন্টনের জন্য তিনি যেরুপ উপযুক্ত বিবেচনা করেন সেইরুপ আদেশ দিবেন।

(৯) ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত মনে করিলে এই ধারার অধীন গৃহীত কোন প্রসিডিংসে এর যে কোন পযায়ে যে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে কোন সাক্ষীকে হাজির হইবার বা কোন দলিল বা বস্তু হাজির করিবার নিদের্শ দিয়া সমন প্রদান করিতে পারিবেন।

(১০) এই ধারার কোন কিছুই তাহা ম্যাজিস্ট্রেটের ১০৭ ধারার অধীন অগ্রসর হইবার ক্ষমতা ব্যাহত করিবে বলিয়া গণ্য করা যাইবে না।

১৪৫ ধারার ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবে উপজেলা ম্যাজিস্টেট দ্বারা প্রয়োগ করতে হবে। স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত বিরোধ হতে উদ্ভুত শান্তি ভঙ্গ প্রতিরোধকল্পে ১৪৫ ধারা দখলরত যে কোন একপক্ষকে দখল বজায় রাখার মাধ্যমে দ্রুত প্রতিকারের বিধান করেছে। এই ধারার উদ্দেশ্য হচ্ছে বিরোধীয় সম্পত্তির দখলে হস্তক্ষেপ করে উক্ত দখল সম্পর্কে অস্থায়ী আদেশ দিতে ম্যাজিষ্ট্রেটকে ক্ষমতা দেয়া এবং উক্ত আদেশের কাযর্কারিতা উপযুক্ত কোন আদালতের দ্বারা যে কোন একপক্ষে প্রকৃত অধিকার নিষ্পত্তি না হওয়া পযর্ন্ত বলবত্‍ থাকে।

তাই এই ধারায় প্রদত্ত এখতিয়ারের ভিত্তির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো হচ্ছে (১) একটি বিরোধ (২) বিরোধটি ভূমির দখল সম্পর্কিত (৩) উহা শান্তি ভঙ্গ করতে পারে এবং এই উপাদানগুলো বিদ্যমান আছে মর্মে ম্যাজিষ্ট্রেট সন্তুষ্ট হলে তিনি হস্তক্ষেপ করার অধিকারী হন। ফৌজদারী আদালতের এখতিয়ার খুবই সীমিত এবং উহা শান্তি ভঙ্গের প্রতিরোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।১৪৫ ধারার কাযর্ধারা আধা বিচারিক এবং প্রকৃতিগতভাবে আধা প্রশাসনিক। ১৪৫ ধারার কখন ও কখন ও অপপ্রয়োগ হওয়ায় দেওয়ানী বিরোধ নিস্পত্তির জন্য পক্ষসমূহ ফৌজদারী আদালতের আশ্রয় নেয় কিনা তা সতর্কভাবে ম্যাজিষ্ট্রেটকে দেখতে হয়।

২. দেওয়ানী আদালতে প্রতিকার: কোন ব্যক্তির সম্পত্তি বেদখল হলে তিনি দেওয়ানী আদালতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারায় মামলা দায়ের করতে পারবেন।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ আইনের ধারা ৮ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার: সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী তা নির্ধারিত পন্থায় পুনরুদ্ধার করতে পারে৷

ধারা ৮ এর প্রধান মূল বিষয় হলো যদি কোন ব্যক্তি দখলভুক্ত কোন স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত বা দখল হারিয়ে ফেলে তবে সে ব্যক্তি দেওয়ানী বিধির বিধান মোতাবেক তা উদ্ধার করতে পারবে৷এ ধারায় মামলায় সম্পত্তিতে বাদীর মালিকানা স্বত্ব থাকতে হবে৷ সম্পত্তিতে যার বৈধ মালিকানা স্বত্ব আছে তিনি কোন কারণে বেদখল হলে বেদখল হওয়ার ১২ বছরের মধ্যে ১৮৭৭ সালের সুনিদিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৪২ ধারা মতে দেওয়ানী আদালতে মামলা করে সম্পত্তির দখল পুনরুদ্বার করতে পারেন৷এই ধারায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে। প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে। এই ধরনের মামলায় এডভোলেরাম কোর্ট ফি প্রদান করতে হয়।

ধারা ৯ অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত ব্যক্তি কতৃক মামলা: যথাযথ আইনগত পন্থা ব্যতিরেকে যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে, যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে৷

সময়: এই ধারায় দখলচ্যুতির ছয় মাসের মধ্যে মোকদ্দমা করতে হবে৷ এ বিষয়ে ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর ৯ ধারার বিধান হলো যিনি ভূমি হতে বেদখল হয়েছেন তাকে বেদখল হওয়ার তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে মধ্যে দখল পুনরুদ্বারের দাবিতে দেওয়ানী আদালতে মামলা করতে হবে৷

মনে রাখা ভাল, ৬ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে মামলা তামাদি দোষে বারিত হবে৷ এভাবে ৯ ধারায় মামলা করে আদালতের মাধ্যমে দখল পুনরুদ্বার করা যায়৷

তবে ৯ ধারার মামলার স্বত্বের প্রশ্নটি বিচার্য হবে না৷ এই ধারার মূল বিষয় হলো বাদীকে আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া সম্পত্তি হতে উচ্ছেদ বা বেদখল করা হয়েছে৷ এই ধারায় কোন ব্যক্তির জমির স্বত্ব যদি অস্বীকার করা হয় তবে তিনি এই ধারায় প্রতিকার চাইতে পারেন৷ ৯ ধারায় মামলার প্রতিকার শুধু দখল সংক্রান্ত৷

আদালতের মাধ্যমে দখল পুনরুদ্বার করা যায়৷ তবে ৯ ধারার মামলার স্বত্বের প্রশ্নটি বিচার্য হবে না৷ এমনকি বাদী যদি সম্পত্তিতে নিজের স্বত্ব (মালিকানা) প্রমাণে সমর্থ নাও হন কেবল বেদখল হওয়ার আগে পযন্ত দখলে থাকা প্রমাণ করতে পারেন তবেই তিনি তার পক্ষে ডিক্রী পেতে পারেন৷ সুনিদিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা মতে প্রদত্ত ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিউ করার কোন বিধান নেই৷ তবে মহামান্য হাইকোর্টে রিভিশন করা যাবে।

কিন্ত সরকার কর্তৃক বেদখল হলে এ আইনে কোন প্রতিকার পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ এই ধারায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না। এই ধারায় এডভোলেরাম কোর্ট ফি এর অর্ধেক কোট ফি দিতে হয়।

ধারা-৯ এর মূল বক্তব্য হলো আইনগত পন্থা ছাড়া দখলচ্যুত ব্যক্তি সম্পত্তিতে তার কোন স্বত্ব থাক বা না থাক, উক্ত দখলচ্যুত স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধারের জন্য মোকদ্দমা দায়েরের মাধ্যমে তা উদ্ধার করতে পারে৷ তবে সম্পত্তিতে প্রকৃত স্বত্ববান ব্যক্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মামলা দায়েরের কোন প্রতিবন্ধকতা থাকে না। সরকারের ক্ষেত্রে এ ধারার কোন প্রয়োগযোগ্যতা নেই। আদালত যে আদেশ দেবে তার বিরুদ্ধে আপীল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না।

ধারা-৪২: মর্যাদা বা অধিকার ঘোষণা সম্পকে আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা। আইনানুগ পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি এমন যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করতে পারে যে, তেমন মর্যাদা বা অধিকারের ব্যাপারে তার স্বত্ব অস্বীকার করেছে কিংবা অস্বীকার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন এবং তেমন মামলায় আরও কোন প্রতিকার দাবি করা বাদীর জন্য আবশ্যক নয়৷ তেমন ঘোষণার সাথে প্রতিবন্ধকতা- তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে দাবি কেবলমাত্র স্বত্বের ঘোষণা ছাড়াও আরও প্রতিকার দাবি করতে সমর্থ, কিন্তু তা করা হতে বিরত থাকে, সেখানে আদালত তেমন ঘোষণা প্রদান করবেন না।

ফেসবুকে উত্ত্যক্তকারীদের শায়েস্তা করতে নিতে পারেন পুলিশের আশ্রয়

 তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতির ফলে যোগাযোগের মাধ্যমে এসেছে অভিনব পরিবর্তন। পৃথিবীর যে কোন জায়গা থেকে যোগাযোগের এই ব্যবস্থা মানুষকে একদিকে যেমন স্বস্তি দিয়েছে, অন্যদিকে এর অপব্যবহার মানুষের অস্বস্তির কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব-সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম একটি হচ্ছে ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় এই মাধ্যমটিতে বিনামূল্যে সদস্য হওয়া যায়।

ব্যবহারকারীরা বন্ধু সংযোজন, বার্তা প্রেরণ এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলী হালনাগাদ ও আদান প্রদান করতে পারেন, সেই সাথে একজন ব্যবহারকারী শহর, কর্মস্থল, বিদ্যালয় এবং অঞ্চল-ভিক্তিক নেটওয়ার্কেও যুক্ত হতে পারেন।

যোগাযোগের এই আমূল পরিবর্তন মানুষের দূরত্বকে অনেকটা কমিয়েছে সে কথা অনস্বীকার্য। কেননা এখন আর প্রবাসির মায়ের মাসের পর মাস ছেলের চিঠির জন্য অপেক্ষা করতে হয়না। নিমিষেই কথা বলতে পারেন কিংবা দৃশ্যছবিতে আদরের মেয়ের শ্বশুর বাড়ির জীবন দেখে নিতে পারেন বাবা।

তবে কতিপয় অসভ্য মানুষের অপব্যবহারের কারণে সামজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটিও বড্ড অসামাজিক হয়ে উঠে। ভুক্তভোগী কারো কারো জীবন হয়ে উঠে দুর্বিষহ।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে (ইনবক্স/কমেন্টস/টাইমলাইনে) বাজে মন্তব্য/কটূক্তি বা ছবি পাঠিয়ে উত্ত্যক্তকারীদের শায়েস্তা করতে পুলিশের আশ্রয় নিতে পারেন।

এক্ষেত্রে যা করণীয়

  • উত্ত্যক্তকারী (বাজে মেসেজ বা ছবি) পোস্টির লিংকসহ স্ক্রিনশট/মেসেজের স্ক্রিনশট এবং উত্ত্যক্তকারীর একাউন্টির প্রোফাইল লিংক সংগ্রহ করে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করুন।

অথবা

  • পুলিশের অপরাধ গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইডি) -এর সাইবার পুলিশ সেন্টারে ভুক্তভোগী সরাসরি নিজে এসে অভিযোগ জানাতে পারেন।

সরাসরি আসতে না চাইলে নিম্নবর্ণিত যেকোন মাধ্যমে অভিযোগ পাঠাতে পারেন

বিশেষ দ্রষ্টব্য: অভিযোগ দায়ের করার আগে উত্ত্যক্তকারীকে ব্লক করবেন না। তবে অভিযোগ দায়ের করার পর প্রয়োজনবোধে সোশ্যাল মিডিয়ার বাজে মেসেজ বা ছবি উত্ত্যক্তকারী একাউন্টটিকে ব্লক করে দিতে পারন।

লজ্জা, ভয়, অসংকোচ দূরে ঠেলে এই মানসিক নির্যাতন থেকে বাঁচতে পুলিশের সহযোগিতা নিন। মনে রাখা ভাল নিরাপদ জীবন গড়তে সোশ্যাল মিডিয়ার সচেতন ব্যবহার সর্বোত্তম।

প্রযুক্তিগত বোকামি ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত

  ইন্টারনেট ১৯৬৯ সালে আবিস্কৃত হয়। গত ১৯৯৫ সালে ইন্টারনেট বাণিজ্যিক বা কর্পোরেট পন্য হিসেবে আবির্ভূত হয়ে চলমান রয়েছে। গত ১৯৯০ দশকে টেলিফো...